গোপালগঞ্জে একদিনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের মোট ১৮ নেতা দলীয় পদ-পদবী ও রাজনীতি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন।
এর মধ্যে ১৬ জন মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতি ইউনিয়নে এবং অপর দুইজন গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান মীরের কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১৬ জন নেতা একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা রয়েছেন।
পদত্যাগকারীরা হলেন— মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম, পশারগাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান মীর, সহ-সভাপতি কাজী সামসুদ্দোহা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল মাসুদ, ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক জাকির মীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মোল্যা, সহ-সভাপতি মো. আলী জিন্নাহ, সদস্য জামাল শেখ, ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি আলীম খান, ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসিরুদ্দিন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ শরীফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজল চক্রবর্তী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামালুদ্দিন মিলু এবং সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্যা।
তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুর রহমান মীর। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল। তাই আমরা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের দলীয় পদ থেকে একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ভবিষ্যতে জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।
তিনি আরও বলেন, “কারও চাপ, ভয়ভীতি বা অত্যাচারের কারণে নয়, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে কারণেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি।”
এদিকে একই দিনে গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. ইকরামুজ্জামান মীনা এবং উলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মোল্লাও নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তাদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “ব্যক্তিগত কারণে বর্তমানে সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী নই। তাই স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে দলের সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করছি। এই মুহূর্ত থেকে আমরা আর দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকব না এবং দলের কোনো কার্যক্রমে সহযোগিতা করব না।
তবে ওই দুই নেতা পদত্যাগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কারণের বাইরে অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি।