গোপালগঞ্জের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেয়া একটি সাজাপ্রাপ্ত রায় চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা ক্রিমিনাল আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। ফলে আসামির পূর্বের সাজাই বহাল রইল।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক (অলাউল আকবর) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, কাশিয়ানী থানার সি.আর. ১৭/২০২৪ নম্বর মামলায় গত ১২/১২/২০২৪ খ্রি. তারিখে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত, গোপালগঞ্জ-এর বিজ্ঞ বিচারক জনাব রোমানা রোজি আসামিকে সাজা প্রদান করেন। পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে ক্রিমিনাল আপিল দায়ের করেন।
আপিল শুনানি শেষে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নিম্ন আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেই আসামির সাজা প্রদান করেছেন। উক্ত রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এছাড়া আপিল দায়েরের বিলম্বের ব্যাখ্যাও যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য ছিল না বলে আদালত মনে করে।
সার্বিক দিক বিবেচনা করে আদালত আসামিপক্ষের আপিল আবেদনটি দোতরফা সূত্রে না-মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল ও বলবৎ রাখার আদেশ দেন।
একই সাথে, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বিচারিক আদালত সাজা কার্যকরের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আদালত থেকে আদেশের অনুলিপিসহ মূল নথি দ্রুত নিম্ন আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন প্রতিনিধি বলেন, এই সুখেন বিশ্বাস বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচয়ে এলাকার মানুষদের দীর্ঘদিন ধোঁকা দিয়ে আসছিলেন। তিনি নিজেকে কখনও রাহুথর কলেজের ইংরেজি অধ্যাপক, ভারত ফেরত চাঁনশি চিকিৎসক এবং হিন্দু ধর্মীয় পুরোহিতের বেশ ধারন করে দীর্ঘদিন হিন্দু সমাজকে ও এলাকাবাসীদের ধোঁকা দিয়ে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি খ্রীষ্টান বেশ ধারণ করে খ্রীষ্টিয় উৎসবে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন ও প্রলোভনের মাধ্যমে খ্রীষ্টান এক নারীকে তিনি বিবাহ করেন, যে ঘরের পুত্র সন্তানটি তার অবহলায় মৃত্যু বরন করেন বলে মত প্রকাশ করেন। তার উপযুক্ত সাজা হওয়ায় এলাকার লোকেরা আনন্দিত ও শান্তি লাভ করছে বলে মত প্রকাশ করেন।