সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের রশিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ফ্লাড সেন্টার (বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র) নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১জুলাই) সকালে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী আবুল হাসান।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল আহসান, জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস বুলবুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশাররফ হোসেন, বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহসিন মুর্তুজা চৌধুরী টিপু, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী তাজুলসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আলেম-উলামা, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুফতী আবুল হাসান বলেন, ফ্লাড সেন্টারটি নির্মিত হলে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারঠাকুরী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ পাবেন। দুর্যোগকালীন সময়ের বাইরে ভবনটি রশিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। তিনি নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২১ অক্টোবর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফ্লাড সেন্টার নির্মাণের আবেদন করে। ২০২৩ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক অনুমোদন ও দরপত্র সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ শুরু করা যায়নি। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় যাচাই-বাছাই ও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এবার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের একমাত্র আধাপাকা ভবনটি শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। বর্ষা ও বন্যার সময় ভবনটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হতো। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পুরোনো ভবন অপসারণের পর গত প্রায় তিন বছর ধরে অস্থায়ী টিনশেড কক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন ফ্লাড সেন্টার নির্মিত হলে একদিকে দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে রশিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা পাবে একটি আধুনিক ও স্থায়ী শিক্ষা অবকাঠামো, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পুরো এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে।