নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি, হাতিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি সালা উদ্দিন মাঝি।
মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তিনি নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার জেলে সম্প্রদায়ের নানা সমস্যা, দুর্ভোগ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
সালা উদ্দিন মাঝি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্যখাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানে মৎস্যখাতের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ এই খাতের মূল চালিকাশক্তি মৎস্যজীবীরা এখনও নানা সংকট, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন, মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য সহায়তা, আর্থিক সুবিধা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মৎস্যজীবীদের ৭ দফা দাবি
১। মৎস্যজীবীদের আর্থিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে তাদের নামে একটি বিশেষ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২। ভিজিএফ সহায়তায় ৪০ কেজি চালের পরিবর্তে ৬০ কেজি চাল এবং নগদ ৫,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে।
৩। বৈধ সময়ে মাছ ধরতে গিয়ে কোনো জেলে নদী বা সাগরে মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে সমিতির সুপারিশক্রমে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা পুনর্বাসন সহায়তা দিতে হবে।
৪। কৃষিখাতে কৃষকদের মতো মৎস্যখাতেও জেলেদের জন্য সরকারি ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে।
৫। অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষিদ্ধকালীন সময়ে শতভাগ জেলেকে খাদ্য সহায়তা দিতে হবে।
৬। ভূমিহীন জেলেদের জন্য খাস জমি বরাদ্দ দিতে হবে।
৭। মৎস্য সংক্রান্ত অভিযান ও কার্যক্রমে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে।
সালা উদ্দিন মাঝি বলেন, “মৎস্যজীবীরা দেশের সম্পদ। তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।
তিনি মহান মে দিবস ২০২৬ সফল করতে এবং মৎস্যজীবীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আয়োজিত সমাবেশে সকল জেলে, শ্রমজীবী মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের দলে দলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।