শিরোনাম :
শায়েস্তাগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি জামাল গ্রেপ্তার ভৈরবে ইউপি চেয়ারম্যান রিপনের পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মহানন্দা সেতু টোলমুক্ত করার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন জেলেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ৭ দফা দাবি, সোচ্চার সালা উদ্দিন মাঝি গোসাইরহাটে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার টুঙ্গীপাড়ায় নির্বাচন অফিসে অনিয়মের ছড়াছড়ি, সেবা না পেয়ে বিপাকে মানুষ হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে জেলার হাজার হাজার কৃষক তাদের একমাত্র বোরো ফসল হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। ‎ ‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুরের দত্তগাঁও এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি হাওরে প্রবেশ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে শত শত একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়। ‎ ‎জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, ভারী বর্ষণে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে অবশিষ্ট ফসলও পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‎ ‎জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ‎ ‎সরেজমিনে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেখা গেছে, কৃষকরা কোমর ও বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কোথাও ছোট নৌকা ব্যবহার করে কাটা ধান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে বাতাসে ধানগাছ পড়ে যাওয়ায় ফসল সংগ্রহে বাড়তি সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে। ‎ ‎ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির বিষয়ে আগাম সতর্কতা যথেষ্ট না থাকায় তারা প্রস্তুতি নিতে পারেননি। অনেক এলাকায় কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ‎ ‎কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিচু এলাকার ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকট, শুকানোর জায়গা ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ‎ ‎বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি সংকটে বিপাকে মোটরসাইকেল মেকানিকরা, স্থবির পার্টস ব্যবসা অষ্টগ্রামে হাওরে ধান ডুবল শিলাবৃষ্টিতে, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রশাসন ও বিএনপি ঠাকুরগাঁওয়ে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন

টুঙ্গীপাড়ায় নির্বাচন অফিসে অনিয়মের ছড়াছড়ি, সেবা না পেয়ে বিপাকে মানুষ

মো.শান্তন শেখ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: / ৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবা প্রদান নিয়ে অনিয়ম, গাফিলতি ও হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেবা নিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না এবং দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্ট—অনলাইন জন্মসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র, বিদ্যুৎ বিল, রক্তের গ্রুপ ও অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তাদের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাকে না পাওয়া কিংবা অযৌক্তিক কারণে আবেদন ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, পূর্ববর্তী কর্মকর্তার সময় তারা ছবি তোলা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদানসহ নিবন্ধনের প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে গেলে বর্তমান কর্মকর্তা তাদের ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান এবং পুনরায় আবেদন করতে বলেন। পরে কম্পিউটার অপারেটরের সহায়তায় পুরনো তথ্য উদ্ধার হলেও নানা অজুহাতে আবেদন গ্রহণে অনীহা দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে সাহেদ শেখ, আবু রায়হান, নাজমুল হাসান, নাইম শেখ, মুর্শিদা আক্তার ও ইমন শেখসহ কয়েকজন জানান, তারা দুই মাস আগে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান করলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। বরং তাদের জানানো হয়েছে, তাদের ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন হবে না এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক আবেদনকারীকে ‘বাইরের এলাকার জন্মনিবন্ধন’ দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু সেবাগ্রহীতার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বাইরের এলাকার জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত আবেদন তিনি গ্রহণ করবেন না।
এদিকে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অনিয়মের সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে জেলার হাজার হাজার কৃষক তাদের একমাত্র বোরো ফসল হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। ‎ ‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুরের দত্তগাঁও এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি হাওরে প্রবেশ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে শত শত একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়। ‎ ‎জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, ভারী বর্ষণে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে অবশিষ্ট ফসলও পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‎ ‎জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ‎ ‎সরেজমিনে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেখা গেছে, কৃষকরা কোমর ও বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কোথাও ছোট নৌকা ব্যবহার করে কাটা ধান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে বাতাসে ধানগাছ পড়ে যাওয়ায় ফসল সংগ্রহে বাড়তি সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে। ‎ ‎ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির বিষয়ে আগাম সতর্কতা যথেষ্ট না থাকায় তারা প্রস্তুতি নিতে পারেননি। অনেক এলাকায় কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ‎ ‎কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিচু এলাকার ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকট, শুকানোর জায়গা ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ‎ ‎বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে জেলার হাজার হাজার কৃষক তাদের একমাত্র বোরো ফসল হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। ‎ ‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুরের দত্তগাঁও এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি হাওরে প্রবেশ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে শত শত একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়। ‎ ‎জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, ভারী বর্ষণে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে অবশিষ্ট ফসলও পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‎ ‎জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ‎ ‎সরেজমিনে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেখা গেছে, কৃষকরা কোমর ও বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কোথাও ছোট নৌকা ব্যবহার করে কাটা ধান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে বাতাসে ধানগাছ পড়ে যাওয়ায় ফসল সংগ্রহে বাড়তি সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে। ‎ ‎ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির বিষয়ে আগাম সতর্কতা যথেষ্ট না থাকায় তারা প্রস্তুতি নিতে পারেননি। অনেক এলাকায় কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ‎ ‎কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিচু এলাকার ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকট, শুকানোর জায়গা ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ‎ ‎বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।