পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, “জুলাই আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস। এটি কেবল একটি মাসের নাম নয়, এটি দীর্ঘদিনের আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক।”
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জুলাই হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। ফ্যাসিস্ট হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও আয়নাঘরে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শত নির্যাতনেও আন্দোলন দমাতে পারেনি স্বৈরাচারেরা। ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি, পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বরের ঘটনা, আল্লামা সাঈদীর রায়ের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার, গুম, নির্যাতন এবং বহু নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগ—সবকিছু মিলিয়েই জুলাই। হাজারো শহীদের রক্তে অর্জিত এই জুলাই জাতির স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।”
জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে মাসুদ সাঈদী বলেন, “আমার সম্মানিত শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে খুনি হাসিনা কারাগার থেকে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এছাড়াও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গুম, খুন, নির্যাতন, পঙ্গুত্ব ও কারাবরণ করতে বাধ্য করেছে। অসংখ্য নেতা-কর্মীকে ঘরছাড়া করেছে। যারা এসব ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত, আহতদের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের চেতনাকে কোনোভাবেই ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না। যারা এই চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে বা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবে, জনগণ তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।”
নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, “জুলাইয়ের আত্মত্যাগের সঙ্গে গাদ্দারি বাংলার মানুষ কখনো মেনে নেবে না। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের সকলের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব। ভবিষ্যতে আবার কেউ খুনি হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বা তাদেরকে আওয়ামী লীগের থেকেও করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে।”
বিবৃতিতে তিনি দেশের শান্তি, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।