কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এলাকাবাসীর মাদক
বিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও মাদক সেবনের উপকরণ ও মাদক বিক্রির নগদ ১৬ হাজার ১ শ টাকা সহ আলাউদ্দিন ও তার স্ত্রী
নুরুন্নাহার নামে দম্পতিকে আটক করেছে। গতকাল রাত আনুমানিক ৮টার সময় পুকুরপাড় এলাকার বাস্তুহারা (বস্তি)র বাসিন্দা।
পঞ্চবটী ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপুর নেতৃত্বে এলাকার মুরুব্বি ও যুব সমাজ অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি উল্লিখিত দম্পতিকে আটক করে উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ টাকাসহ পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে।
ওমর মোহাম্মদ অপু বলেন, মাদক বিরোধী এলাকাবাসীর আন্দোলনে অবশেষে এক সময়ের চিহ্নিত মাদক পল্লি হিসেবে পরিচিত পুকুরপাড় এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে মাদক বিরোধী আন্দোলনকারীরা। প্রতিরোধ আর প্রতিবাদের চাপে পড়ে পুকুরপাড় এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিরা মাদক পেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তবে এখনো কিছুসংখ্যক মাদক কারবারি গোপনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে মাদক বিক্রি করে থাকে এমন অভিযোগও আমরা পাচ্ছি। এদের প্রতিও আমাদের নজরদারি রয়েছে। মাদক বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়, এরই অংশ হিসেবে গতকাল রাতে পুকুরপাড় এলাকার বাস্তুহারা (বস্তিতে) মাদক কারবারি আলাউদ্দিনের ঘরে অভিযান চালিয়ে আলাউদ্দিন ও তার স্ত্রী নুরুন্নাহারকে আটক করা হয়েছে। পরে এলাকার দু একজন মহিলাকে ডেকে এনে তাদের দ্বারা নুরুন্নাহারের দেহ তল্লাশি করে তার বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখা একটি কৌটার মধ্যে ৩ পিস ইয়াবা, ঘরের আনাচে কানাচে, মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা প্রচুর পরিমাণে মাদক সেবনের উপকরণ পাওয়া যায়। এছাড়াও মাদক বিক্রির নগদ ১৬ হাজার ১শ টাকাও পাওয়া যায়। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে আটককৃত মাদক কারবারি দম্পতিকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক এলাকারই মাদক বিক্রির পেছনে রয়েছে কিছু লোকের স্বজনপ্রীতি আর আর্থিক সুবিধা নেওয়া। প্রতিবাদ না করে স্বজনপ্রীতি আর আর্থিক সুবিধা নেওয়া লোকদের কারণেই আজ মাদকে ছেয়ে গেছে প্রতিটি পাড়া মহল্লা। অতীতে দেখা গেছে মাদক কারবারিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করলে প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তির তদবির থাকার কারণে মাদক কারবারিরা ছাড়া পেয়ে যেতো। আবার কেউ জেলে গেলেও জামিনে এসে পুনরায় পুরোনো পেশায় জড়িয়ে পড়তো প্রতিরোধ বা মাদক বিরোধী আন্দোলন না থাকায়। এখন মাদক বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে মাদক বিরোধী প্রতিবাদমুখর লোকজন নিয়ে। এমনকি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সাহেব নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের মাদকসহ আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করছেন। এতেও যদি মাদক কারবারিরা মাদক ব্যাবসা না ছাড়ে তাহলে তাদেরকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হবে। আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করেই ছাড়বো।