স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সৌদী আরব প্রবাসী ইয়াছিন আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মিতু বেগম (২১) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১৩ আগষ্ট) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর মাদ্রাসা মাঠে নিহত ইয়াছিন আহমেদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে কমলপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত ইয়াছিন আহমেদ শহরের কমলপুর মুসলিমের মোড় এলাকার পূবালী ব্যাংক বিল্ডিং মালিক মৃত বাক্কী মিয়ার ছেলে।
বুধবার (১২আগষ্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড মালিহাতা এলাকায় একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক্সিডেন্ট হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহত স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি আরো জানান, বিশ্বরোড মালিহাতা এলাকায় একটি অজ্ঞাত ট্রাকের পিছন দিকে মোটরসাইকেল আরোহী ধাক্কা দেয়। মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতির হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিকে প্রবাসী যুবকের মৃত্যুতে ভৈরব শহরের মুসলিমের মোড় এলাকায় ও পরিবারের শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে নিহতের চাচাতো ভাই ওমর আহমেদ বলেন, ১৭ মাস আগে সৌদী আরবে গিয়েছিল ইয়াছিন। ২৪ জুলাই সে দেশে এসেছে। সৌদী আরবে ইয়াছিন ফুড ডেলিভারির কাজ করতো। পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিল সে। তাঁর আরো দুই বোন রয়েছে। প্রায় সাড়ে ৫ বছর আগে তুলি বেগমকে বিয়ে করে ইয়াছিন। তাদের পরিবারে আলিফ নামে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে ১২ আগস্ট বিকাল ৪টায় মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী তুলি বেগমকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিস্তা নদী সংলগ্ন মিনি কক্সবাজারে ঘুরতে যায় ইয়াছিন। সেখান থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যায় বিশ্বরোড মালিহাতা এলাকায় মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি হয়। তাদের ফিরতে দেরি হওয়ায় বাড়ি থেকে ইয়াছিনের মুঠোফোনে কল দিলে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা কল রিসিভ করে জানান ইয়াছিন এক্সিডেন্ট করেছে। স্থানীয়রা ইয়াছিন ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে ইয়াছিন মৃত্যু বরণ করেন। আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল থেকে ইয়াছিনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি। তাঁর স্ত্রী তুলি বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইয়াছিন আগামী মাসে ১৭ অক্টোবর সৌদী আরবে চলে যাওয়ার ফিরতি টিকিট করা ছিল।