ঠাকুরগাঁওয়ে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কনস্টেবলকে অপহরণ করে মারধর, চাঁদা দাবি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে গ্রেফতার পাঁচ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আর্থিক বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোহেল রানা (৩২), ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া এলাকার বিপ্লব ইসলাম (২৭), গোবিন্দ নগর এলাকার নাজমুল হোসেন ওরফে রাব্বি (২২), জগন্নাথপুর হাজির মোড় এলাকার সাকিব খান (২৬) এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার নাইম আহাম্মেদ (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর থানার কনস্টেবল মো. আজিজুল ইসলাম সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজে মাঠে ছিলেন। এ সময় শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার পুরাতন ওয়ালটন সার্ভিস মোড়ে পৌঁছালে একদল যুবক তাঁর পথরোধ করে। পরে তাঁকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে মারধর করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
এরপর তাঁকে মোহাম্মদ আলী জেলা স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে পঞ্চগড়-দিনাজপুর মহাসড়কসংলগ্ন ‘সাকিব মটরস’ নামের একটি দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে চাঁদা দাবি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, সিভিল পোশাকে এলাকায় তথ্য সংগ্রহের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলে যে ‘এই থানায় থাকতে হলে আমাদের চাঁদা দিতে হবে।’ একপর্যায়ে তাঁকে তিনটি ১০০ টাকার ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।
প্রতিবাদ করলে সাকিব খান অন্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই বেটা পুলিশকে ধর, আজকে পুলিশ মেরে দুপুরে ভাত খাবো।’ এরপর সোহেল রানা তাঁকে চড় মারেন এবং রাব্বি বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর দুই পায়ে আঘাত করেন। পরে অন্যরাও লাঠি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে আসামিরা তাঁর মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালায়। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে আহত অবস্থায় কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং বিষয়টি থানাকে অবহিত করেন। চিকিৎসা ও আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) তিনি বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সরকারি কাজে বাধা, অপহরণ, চাঁদা দাবি, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনরত একজন পুলিশ সদস্যের ওপর এমন হামলা খুবই গুরুতর ঘটনা। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’