নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা সংলগ্ন পশ্চিম বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়ন এলাকার গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে হয়রানি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ প্রায় সাত মাস ঝুলিয়ে রেখে স্থানীয় প্রভাবশালী ও দালালচক্রের মাধ্যমে বিতর্কিত রায় দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, সান্তাহার ইউনিয়নের দরিয়াপুর গ্রামের গ্রামের মৃত আজাদ মিস্ত্রির স্ত্রী ফিরোজা ১৯৮০ সালে বিক্রি হওয়া এক শতাংশ জমি পাওয়ার দাবিতে গত বছরের অক্টোবর মাসে গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অথচ তার বাবা মৃত আমজাদ হোসেন জীবিত থাকাকালে কখনও এ ধরনের দাবি তোলা হয়নি। অভিযোগের পর একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামে বৈঠক হলেও দীর্ঘদিনেও কোনো সমাধান হয়নি।
আব্দুর রউফের দাবি, সান্তাহার ইউনিয়নের সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতা ও ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম বাদীপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে যে কোনোভাবে জমি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে কয়েক দফা বৈঠক ও জমি জরিপের পরও বাদীপক্ষের দাবি প্রমাণিত না হলেও শেষ পর্যন্ত তার ক্রয়কৃত জমির একটি সীমানা পরিবর্তন করে প্রায় দুই হাত জমি বাদীপক্ষকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ন্যায়বিচার পাননি। দীর্ঘসূত্রতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে তাকে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
রাণীনগরের দলিল লেখক ও জমি বিশেষজ্ঞ মোকলেছুর রহমান বলেন, সিএস, আরএস ও খারিজ অনুযায়ী আব্দুর রউফের জমির দখল ও মালিকানা সঠিক রয়েছে। বরং তার কিছু জমি এখনো বাদীপক্ষ ভোগ করছে। আঁতাতের কারণেই অন্যায়ভাবে কিছু জমি বাদীপক্ষকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সান্তাহার ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যানের পক্ষে সবসময় সরেজমিনে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। তাই কখনও স্থানীয় প্রতিনিধি ও দলীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে কেউ হয়রানির শিকার হলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।