কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নোয়াপাড়া এলাকায় লিপি আক্তার (৪০) নামে এক নারীকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার প্রধান আসামি মো. সুমন (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এবং র্যাব-১ সিপিসি-১ এর সদস্যরা।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন বুড়িচং উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় একা বসবাসরত লিপি আক্তারের সঙ্গে তার মেয়ের দেখা হয়। পরদিন ২৯ মে সকালে পরিবারের সদস্যরা খবর পান যে, লিপি আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার মেয়ে বাসায় গিয়ে খাটের ওপর মায়ের মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-১১ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (৩০ মে) ভোরে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এবং র্যাব-১ সিপিসি-১ এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর সদর থানার ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকা থেকে প্রধান আসামি মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে, সুমন একজন মাদকাসক্ত এবং নিহত লিপি আক্তার তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনার রাতে তিনি লিপি আক্তারের বাসায় অবস্থান করেন। পরদিন ভোরে নিহতের মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যাওয়ার সময় বাধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সুমন লিপি আক্তারকে বিছানায় ফেলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন। হত্যার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। পরে র্যাবের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা র্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের শনিবার থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হুয়েছে।