নেত্রকোনায় যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-বাবা ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রবিবার (৩১ মে) দুপুরে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা এলাকার নতুন বাইপাস মোড়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলী কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়নাল হক, তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এবং তাদের দুই মেয়ে স্মৃতি ও ইতি। আহত অটোরিকশা চালক রেহানকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা অভিমুখে আসা একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস চল্লিশা বাইপাস মোড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, নতুন বাইপাস সড়ক চালুর পর থেকে সেখানে কোনো স্পিডব্রেকার, গোলচত্বর বা কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
নিহতদের স্বজন ফরিদা বেগম বলেন, “এখানে কোনো স্পিডব্রেকার বা ট্রাফিক পুলিশ নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কোনো নজর নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান দ্রুত ওই স্থানে স্পিডব্রেকার ও গোলচত্বর নির্মাণের দাবি জানান।
খবর পেয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে রেকারের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা সরিয়ে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকার জানান, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামীকাল থেকেই সেখানে স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি গোলচত্বর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।
প্রশাসনের আশ্বাসে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।