নেত্রকোনা পৌরশহরের কাটলী উত্তরপাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে মনোয়ারা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী আবুচান মিয়া ও ছেলে মুন্না (২২)।
সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবুচান মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত মুন্নাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে আবুচান মিয়া নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের মেয়ে এষা মনি (১৪) জানান, অভিযুক্ত রশিদ তাদের প্রতিবেশী এবং পেশায় রিকশাচালক। তিনি বিভিন্ন সময়ে মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে ধার হিসেবে টাকা নিতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে পানি পান করার কথা বলে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন।
এষার অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পর রশিদ তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। বিষয়টি সে তাৎক্ষণিকভাবে মাকে জানালে মনোয়ারা বেগম বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি মনে করে মেয়েকে সান্ত্বনা দেন। পরে এষা প্রাইভেট পড়তে চলে গেলে অভিযুক্ত রশিদ ঘরে ঢুকে মনোয়ারা বেগমকে হত্যা করে এবং মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে আসেন মনোয়ারার ছেলে মুন্না ও স্বামী আবুচান। এ সময় অভিযুক্ত তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। পরে এষা বাড়িতে ফিরে বাবা ও ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খাটের নিচ থেকে মায়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার জানান, হামলায় মনোয়ারা বেগম নিহত হয়েছেন এবং তার স্বামী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তও আহত থাকায় তাকে চিকিৎসার আওতায় রেখে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহ করবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিরোধ বা পূর্বশত্রুতার বিষয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।