• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline
হলুদের জোয়ারে ভাসল ঠাকুরগাঁও, ব্রাজিল ভক্তদের বিশাল মিছিল সামাজিক অ’প’রা’ধ নির্মূলে অষ্টগ্রাম থানার উদ্যোগে মতবিনিময় সভা কররী-ক্ষুদ্রচাকশ্রী মাঠে ৪ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ভারতের আগ্রাসন ও পুশ-ইন রুখে দেবে বিজিবি-জনগণ: এমপি বুলবুল বাগেরহাটে ‘স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং’ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত অষ্টগ্রামে বিডি ক্লিনের সদস্য সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবীদের মিলনমেলা পাঁচবিবিতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাঁচবিবিতে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করায় রাস্তায় জলাবদ্ধতা,চলাচলে জনদূর্ভোগ রাঙ্গামাটিতে ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রে’প্তার

পুরুষশূন্য বাড়িই টার্গেট: গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত নারীদের ওপর হা’মলা

রাজেকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি,
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

পুরুষশূন্য বাড়ি ছিল তার প্রধান টার্গেট। গভীর রাতে দেয়াল টপকে কিংবা জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করত। এরপর ঘুমন্ত নারীদের মাথায় টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল, বাঁশ কিংবা লোহার শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যেত। মূল্যবান জিনিসপত্র বা নগদ টাকা লুট করা নয়, বরং নারীদের মাথায় আঘাত করেই বিকৃত তৃপ্তি লাভ করত সে। পুলিশ বলছে, চুরির উদ্দেশ্য থাকলেও নারীদের ওপর হামলাই ছিল তার মূল নেশা।

এমনই গা শিউরে ওঠার মতো এক ধারাবাহিক হামলার রহস্য উদঘাটন করে গোলাম মোরশেদ ওরফে মোরশেদ আলম (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। তিনি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পাতহাট গ্রামের হইবর রহমান ওরফে হবিবরের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা উপজেলায় অন্তত ১২ জন নারী একই ধরনের নৃশংস হামলার শিকার হন। এর মধ্যে ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ গ্রামের কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ জানুয়ারি গভীর রাতে ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ গ্রামে হাসান আলীর বাড়িতে দেয়াল টপকে প্রবেশ করে হামলাকারী। পরে তার মেয়ে কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবার মাথায় টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় উম্মে হাবিবার মৃত্যু হয়। একই রাতে আরও দুটি বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের স্ত্রী সুলতানা বেগমের ওপর হামলা চালায় সে। একই রাতে আরও তিনটি বাড়িতে প্রবেশ করে নারী সদস্যদের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে গত ৭ মে বদলগাছী উপজেলার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় তিনটি বাড়িতে ঢুকে শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) এবং বাকপ্রতিবন্ধী বৃষ্টি (২০)-কে গুরুতর আহত করে।

সর্বশেষ গত ৪ জুন পত্নীতলা উপজেলার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে রোজি আক্তার (৩৭), আলতা বানু (৪৫) ও তার মেয়ে আসমা খাতুনকে (২২) লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনায় নওগাঁর বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, ধারাবাহিক এসব ক্লুলেস ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ইউনিটের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় অপরাধ সংঘটনের ধরন বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনের প্রোফাইল তৈরি করা হয়। জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলার অনুরূপ ঘটনার তথ্যও সংগ্রহ করা হয়।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত বুধবার (১০ জুন) ভোরে গাজীপুর জেলার বাসন থানার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে গোলাম মোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলায় অন্তত ১৭ থেকে ১৮ জন নারীর ওপর হামলার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান পুলিশ সুপার। এসব ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানান। পরে আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোরশেদ একাই বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে এসব অপরাধ সংঘটন করতেন। নারীপ্রধান বা পুরুষশূন্য বাড়িগুলোকে টার্গেট করে গভীর রাতে ঘরে প্রবেশ করতেন এবং ঘুমন্ত নারীদের মাথায় আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যেতেন। তার অপরাধের ধরন ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর ও সাইকোপ্যাথিক।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব, সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান, ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category