মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২নং মনুমুখ ইউনিয়নের ঘোড়াখাল এলাকায় দুই প্রবাসী পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক যুগ আগে উভয় পরিবারের মধ্যে জমি বিনিময় হলেও বাহার মিয়া পুর্ব পুরুষ তাদের বিনিময়কৃত জমি বুঝিয়ে দিলেও কমলা বেগম পক্ষ এখনো জমি হস্তান্তর না করায় সৃষ্টি হয় বিরোধ। সময়ের পরিক্রমায় এ বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও লন্ডন প্রবাসী কমলা বেগম সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার সচেতন মহল। এ ঘটনায় উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভূমির তফসিল অনুযায়ী, মৌজা-বাউরভাগ, জেএল নং-২৬, খতিয়ান নং-১০০, দাগ নং-২০৪৮ এর ৪ শতক ভূমি নিয়ে এ বিরোধ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, জমি সংক্রান্ত এ বিরোধের কারণে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
অপরদিকে, লন্ডন প্রবাসী বাহার মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ভীতি ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশে আসতে পারছেন না। গত ২৫ ফেব্রোয়ারী এব্যাপারে তার পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার মডেল থানায় জিডি করা হয়। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ১ নং খলিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান, ২ নং মনুরমুখ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য আনকার মিয়া ও সচেতন ব্যক্তি আকমুল মিয়া, আব্দুল রহিম, ফাহিমা বেগম বলেন, গত ১ মার্চ লন্ডন প্রবাসী বাহার মিয়া এর মৌলভীবাজার বাসায় গন্যমান্য ব্যক্তি সহ সালিশ বসে। সেখানে সালিশে সিন্ধান্ত হয় প্রবাসী কমলা বেগম তাদের বিনিময়ের কথা মতো নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার প্রবসী বাহর মিয়া দিবেন। আর অন্য দিকে আরো ৪ শতক জমি দিবেন। প্রথমে সালিশের সিন্ধান্ত প্রবাসী কমলা বেগম মেনে নিলেও পরে তা কার্যকর না করে বিনিময়কৃত জমির উপর দেয়াল ও বাড়ির গেইট নির্মণ করেন। ফলে তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে যায়। ইদানিং বাহার মিয়া গংদের উপর মামলা করেছেন।
বাহার মিয়া ভাবী জিলা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে।
এব্যাপারে প্রবাসী কমলা বেগম মোবাইল ফোনে জমি বিনিময় সংক্রান্ত বিষয় স্বীকার করে বলেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে জমির বিনিময়ে বাহার মিয়া আমার মুরব্বির নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা নেন। তার ৩ ভাই বলছে টাকা লাগবেনা। বিশ্বাষের উপর কাগজ করা হয়নি। আর বাহার মিয়া সাথে আমার কোন সালিশ বৈঠক আমার পক্ষের মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন। ামিতো বিচারে ছিলামনা। বিচার হলে আমিতো থাকতে হবে। বিচারের রায় তো আমিই দিতে হবে। আমি বিচারে নেই। এই বিচার আমি মনিনা। বাহর মিয়ার তার লোকেরা আমার জমির উপর হাত দিয়েছে। এব্যাপারে মামলা করেছি। বাহার মিয়ার লোকেরা জমি দখলের চেষ্টা করেছে, এবিষয়ে চুরি, ডাকাতির মামলা কেন করলেন এমন প্রশ্ন করলে বিষয়টি এরিয়ে যান।