গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ২নং বর্ণি ইউনিয়নের সাবেক দুই বারের চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন জমাদ্দারের বিরুদ্ধে জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ।
গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে ২নং বর্ণি ইউনিয়নের জনগণের পক্ষে মোঃ রমজান সরকার নামের এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পুরাতন সংসদ ভবন, তেজগাঁও) এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন (যার ডায়েরি নম্বর- ০১০৪/২৪)।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া আবেদন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে এলাকায় একক প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন খালিদ হোসেন জমাদ্দার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ও তার সহযোগীরা সাধারণ মানুষের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে অসহায়, গরীব মানুষের জমিজমা অন্যায়ভাবে দখল এবং অর্থসম্পদ লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্ণি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
বিগত সরকারের আমলে খালিদ চেয়ারম্যানের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও ছিল না। সাধারণ মানুষের জমি দখল করাই ছিল তার মূল কাজ।
লিখিত আবেদনে আরও জানানো হয়, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি খোলস বদলেছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নাম ভাঙিয়ে এলাকায় পুনরায় দখলবাজি, চাঁদা দাবি ও লুটপাট শুরু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং একে দলটির জন্য একটি অশুভ লক্ষণ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর খালিদ হোসেন নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় নতুন করে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনীর মাধ্যমে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি
জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খালিদ হোসেন জমাদ্দারের নামে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে স্থানীয় প্রশাসন কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে টুঙ্গিপাড়ার সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে (শেষ নম্বর ৬৩১) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, টুঙ্গিপাড়ার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং অপরাধী শাস্তি পাবে।