ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর,উপজেলার সরাইল-নাসিরনগর-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ নাসিরনগর বুড়িশ্বর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্হান মহাখাল খালের উপরে নির্মিত শতবর্ষী সেতুটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
জরাজীর্ণ ও ভেঙে পড়া এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন, যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি ও স্কুলগামী কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।সেতুটির মাঝখানে ফাঁটল ও দুই মাথা ভেঙ্গে পড়েছে।
বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী একটি মিনি সেতু নির্মান করা হলেও সেই সেতুটির অবস্থাও নাজুক।
দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়ভাবে নির্মিত অস্থায়ী সেতুটির নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। ফলে সেটিও এখন নিরাপদ নয়। মূল সেতু ভেঙে পড়লে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না।
আজ সোমবার(১৫জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর ডেক ও রেলিংয়ের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কংক্রিট খসে পড়ে রড রট বেরিয়ে গেছে। মূল কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় হালকা যানবাহন পারপার হলেও সেতুটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর একটি অংশ ভেঙে মূল জায়গা থেকে সরে গেছে।
বেণীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, এই সেতু দিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করে। প্রতিদিন আতংকে থাকি কখন না জানি সেতুটা ভেঙে পড়ে। ট্রাক গেলে মনে হয় সেতুটি এখনই ভেঙে পড়বে।
একজন সিএনজি চালক কুদ্দুস মিয়া জানান, যাত্রী নিয়ে সেতুর ওপর উঠতে গেলে কলিজা শুকিয়ে যায়। গর্তের জন্য চাকা আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়। কয়েকবার ছোটখাটো দুর্ঘটনাও হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এই সেতুটি নাসিরনগর উপজেলার সাথে সরাইল ও হবিগঞ্জের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সেতুটি ভেঙে পড়লে নাসিরনগরের প্রায় ৪ লাখ মানুষ সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কৃষিপণ্য, জরুরি রোগী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে।
এলাকাবাসী দ্রুত মূল সেতুটির সংস্কার এবং টেকসই বিকল্প সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মোমেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে ব্রিজটি সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি নতুন এসেছি ব্রিজটি কোথায় আমি ছিনি না।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাহিনা নাসরিনের সাথে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের সাথে মোববাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে আমি এখনই নির্বাহি প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলবো।