কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সরকারের ক্ষতিপূরণের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ এনে তদন্তের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ১৭ জুন বুধবার দুপুরে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের প্রান্তিক কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ এর হাতে একটি লিখিত অভিযোগ পত্র তুলে দেন।
অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে কচুরিপানা জমে যাওয়া এবং প্রবল ঝড়ের আঘাতে গজারিয়া ইউনিয়নের চাষাবাদকৃত ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও তথ্য সংগ্রহকারীরা ওই এলাকায় সরজমিনে তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তারা বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি সংগ্রহ করেন এবং দ্রুত সরকারি অনুদান প্রদানের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অনুদান বরাদ্দ আসলেও অনুদান প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে পৌঁছায়নি।
অভিযোগে রয়েছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রকৃত তথ্য গোপন করে যারা কোনোভাবে কৃষিকাজের সাথে জড়িত নয় কিংবা যাদের কোনো ক্ষতিই হয়নি, তাদের নামে এই অনুদান তুলে অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছে। ফলে আমরা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম আর্থিক লোকসান ও চরম অনাহারের মুখে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী কৃষক আদিল রানা বলেন, আমাদের এলাকার প্রায় ৪০-৫০ জন কৃষকের পক্ষে আমি এটি অভিযোগ পত্র ইউএনও বরাবর জমা দিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমরা কৃষকরা চরম আর্থিক লোকসান ও চরম অনাহারের দিন কাটাচ্ছি। অনুদান বিতরণের অনিয়ম ও আত্মসাতের বিষয়টি যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে, আমাদের মতো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি অনুদান পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলে অনেক ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে করে কৃষক ধান ঘরে তুলতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঐ সকল কৃষকদের মানবিক সহায়তা করার জন্য সরকার কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে তাদের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা দেওয়া হয়। আর ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের তালিকা করতে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে উপজেলা চত্বরে ১৭ জুন দুপুরে সাংবাদিকদের কৃষক রিপন মিয়া, হাদিস মিয়া ও খলিল মিয়া বলেন, এ বছরে অতিবৃষ্টির কারণে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ধারদেন করে কিস্তিতে টাকা তুলে এনে ফসল করেছিলাম। বৃষ্টি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আমরা এবছর ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। আমাদের সরকারি অনুদান না দিয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি তাদেরকে একটি কুচক্রী মহল অনুদানের টাকা দিয়ে দিয়েছেন। আমরা চাই প্রশাসন এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করুক। আমরা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের অনুদানের ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, যারা ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা তারা সরকারি প্রণোদনা না পেয়ে সরকারি প্রণোদনার অর্থ ও চাউল পেলেন বিত্তবান কৃষকরা।
তাদের আরো অভিযোগ রয়েছে, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি পেয়েছেন প্রণোদনা অর্থ আর চাউল। তাই তারা বৃষ্টিতে ভিজে অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কেএম মামুনুর রশিদের কার্যালয়ে।
এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, আমার কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। আসলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পত্র পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের পর সত্যতা জানা যাবে।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী কৃষকরা যেন সরকারি সহায়তা পায়।