মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাদক প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে এক সচেতনতামুলক সভা শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামবাসীর উদ্যোগে ‘বনগাঁও’ গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মোসাব্বির আল মাসুদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মোঃ তাজ উদ্দিন তাজু, এলাকার মুরব্বি আফজল মিয়া, সুধান চক্রবর্ত্তী প্রমুখ।
সভায় মোসাব্বির আল মাসুদ বলেন, উপজেলার আনাচে-কানাচে মাদক-ইয়াবা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্পটে মাদক-ইয়াবা নেশাজাতীয় বস্তু বেচাকেনা হচ্ছে। মাদক কারবারিদের কেউ বাধা দিলে তাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলেও সহজেই সহযোগিতা পাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ার কারণে সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলের আলিশারকুল এলাকায় শিশু, ভুনবীর এলাকায় মসজিদের ভেতরে মুয়াজ্জিন, কালাপুর এলাকায় বাবা-ভাই এবং সিন্দুরখান রোড চায়ের দোকানে এক যুবক হত্যকার শিকার হন।
বনগাও এলাকার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকায় ইমদাদুর রহমান দীর্ঘদিন মাদক-ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের নাজেহাল করা হয়। কিছু দিন আগে তার হিন্দু এক প্রতিবেশী ইমদাদের মাদক কারবারে বাধা প্রদান করে বাকবিতন্ডায় হয়। পরে প্রতিবাদকারীকে হত্যাচেষ্টা
করে ওই মাদক কারবারি। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীনের পর আহত ওই ছেলে সুস্থ হয়। শুনেছি ওই মাদক কারবারি কয়েকবার জেল খাটারর পরও এ ব্যবসা ছাড়েনি। পুলিশের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। এ ঘটনায় জখমি অভিযোগকারীর ডাকে পুলিশ আসেনি এবং অভিযোগ দেয়ার পরও কোনো সহযোগিতাও সে পায়নি। এলাকার চিহ্নিত এই মাদক কারবারির কারণে ওই এলাকার সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং কিশোর যুব সমাজ নষ্ট হচ্ছে।
সভা মোঃ তাজ উদ্দিন তাজু অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেই। এর প্রমাণ শাপলাগ এলাকায় মাদক কারবারি কর্তৃক লুৎফুর ও সোহেলকে আহতের ঘটনা। শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত ওসি আব্দুর রাজ্জাককে বারবার কল করার পরও যথাসময় তিনি ঘটনাস্থলে আসেননি। তদন্ত ওসি আব্দুর রাজ্জাক মাদক কারবারিদের সহযোগিতাসহ এসব অপকর্মে জড়িত রয়েছেন। এমন অভিযোগ তুলেন বিএনপি সেতা তাজু।
তিনি বলেন, পুলিশসহ সচেতন নাগরিকরা একসাথে কাজ করলে মাদক প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সভায় এলাকাবাসি বলেন, বনগাঁও এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি ইমদাদুর পেশায়ং ছিলেন রিকশা চালক। এখন তিনি পেশা ছেড়ে দর্ঘিদিন ধরে মাদক-ইয়াবা কারবারে জড়িত। প্রতিদিন এলাকা থেকে তিনি টমটমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের কাছে মাদক বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমদাদুর রহমান (৫০) বলেন, আমি একসময় রিকশা চালক ছিলাম। এখন টুকটাক কৃষি কাজ করি। আমি কোনোভাবেই মাদক কারবারে জড়িত না এবং মাদক ইয়াবার ব্যাবসাও করি না। আমার সাথে প্রতিবেশির এ্যনিমি সম্পদ নিয়ে কিছু বিরোধের জেরে তারা আমাকে মাদক কারবারির অভিযোগ তুলেছে।
শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত ওসি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক কারবারিদের সহযোগিত বা কোনো অপকর্মে আমি জড়িত নেই। মাত্র কয়েক মাস হয়েছে আমি শ্রীমঙ্গলে এসেছি। সব এলাকা এবং অনেককে এখনো আমি ভালো করে চিনি না। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি অনেক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছি। লুৎফুরের মামলার আসামিকেও আমি ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে এনেছি।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীসহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পুলিশের কেউ মাদক কারবারিদের সহযোগিতা বা অপকর্মে জড়িত থাকতে পারে না। তদন্ত ওসির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে ব্যস্থা নেয়া হবে।
ওসি আরও বলেন, তিনি আরও বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি নির্মূলে শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদেরও সহযোগিতা কামনা করেন।