• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
Headline
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চুনারুঘাটের এএসআই প্রত্যাহার পানছড়িতে স্যাম ইউনিটের চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর ভৈরবে বাড়ির আঙ্গিনা থেকে সিঙ্গাপুর প্রবাসীর হাত-পা বাঁ’ধা লা/শ উদ্ধার সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পানছড়িতে বিএনপির বিক্ষোভ অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ অষ্টগ্রামে জলমহাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫ নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা জয়পুরহাটে ৭২ কেজির কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪ সামাজিক ক্ষমতায়নে ব্র্যাকের সচেতনতামূলক সভা ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার, যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড

কৃষকের মাঠ থেকে মানুষের থালায় বিষের ছোবল

রাজেকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২০১৮ সালের কীটনাশক আইনকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জনমত উপেক্ষা করে, বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষায় তড়িঘড়ি করে প্রণীত এই আইনের সুযোগ নিয়েই দেশে অবাধে প্রবেশ করেছে নিম্নমানের ও ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক।

কৃষি সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল বলছে, বহু আমদানিকৃত কীটনাশকে ক্ষতিকর হেভিমেটালসহ মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক উপাদান থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অথচ কঠোর নিয়ন্ত্রণের বদলে আমদানিকে সহজ করতে নীতিমালাকেই দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। এর ফলে দেশের মাটি, পানি, ফসল ও খাদ্যচক্র ধীরে ধীরে বিষাক্ত হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিযোগ রয়েছে, এই আইনের পেছনে সক্রিয় ছিল প্রভাবশালী আমদানিকারক সিন্ডিকেট। তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতেই আইনটি জনগণের মতামত ছাড়াই দ্রুত পাস করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের একটি অংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হিসেবে সমালোচকরা তুলে ধরছেন শুল্ক বৈষম্যের বিষয়টি। বিদেশি কীটনাশক আমদানিতে যেখানে মাত্র ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, সেখানে দেশে উন্নতমানের কীটনাশক উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে দিতে হয় প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক। ফলে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ছে, আর বাজার দখল করছে আমদানিনির্ভর নিম্নমানের পণ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তারা বলছেন, এখনই কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন ল্যাব পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা, দায়ীদের জবাবদিহি এবং বিতর্কিত নীতিমালার পূর্ণ পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, মানুষের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলে কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে? কৃষকের জমি, শিশুর খাবার ও দেশের পরিবেশ যদি বিষাক্ত হয়ে পড়ে, তবে উন্নয়নের সেই দাবি কতটা অর্থবহ?

নিরাপদ খাদ্য ও বিষমুক্ত কৃষির দাবিতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category