মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর যোগদানের পর অফিসের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সওজ বিভাগের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রভাব ছিল। ফলে অনেক স্থানীয় ঠিকাদার টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন।
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, স্বৈরাচার সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে অন্যদের জন্য ঠিকাদারি কাজ পাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে টেন্ডার জমা দেওয়ার সুযোগও তারা পেতেন না।
তবে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, নানা ধরনের চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, “আগে আমরা অনেকেই টেন্ডারে অংশ নিতে পারতাম না। বিভিন্ন বাধা ছিল। কিন্তু বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন যোগ্যতা ও নিয়ম অনুযায়ী কাজ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”
তারা আরও বলেন, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সওজ বিভাগের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এতে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে এবং সরকারি কাজের মানও উন্নত হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সওজ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সকল কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানান।
মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার হামিদ বলেন, আমি সব চেয়ে আমার উপর অর্পিত দায়ীত্ব গুরুত্বের সাথে পালন করি।
মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের চরম জনবল সংকট রয়েছে। তদপুরি এই সীমিত জনবলের সহায়তায় মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের সড়ক, সেতু/কালভার্টসমূহ সংস্কারের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সড়ক বিভাগ কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ফানাই সেতু, চৈত্রঘাট সেতু ও জুড়ী উপজেলাধীন সরণরাই সেতু প্রসংশিত হয়েছে। মৌলভীবাজার বাসীর চাহিদার প্রেক্ষিতে খুব শীঘ্রই চাঁদনীঘাটের বাইপাস সড়কে রিজিড পেভমেন্টসহ রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের শেষপ্রান্তে কুশিয়ারা নদীর উপর ফেরী উদ্ভোধন করা হবে। স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও সওজ বিভাগের টেন্ডার ও উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং সকল ঠিকাদার সমান সুযোগ পাবেন।