পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে এলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারপল্লীতে। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য দা, চাপাতি ও ছুরি তৈরিতে রাতদিন কাজ করেন কামাররা। তবে এবার সেই চিরচেনা ব্যস্ততা নেই কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাজারের কামারদের মধ্যে। কাজ কমে যাওয়ায় হতাশ সময় পার করছেন তারা।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাজারে রয়েছে সাতটি কামারের দোকান। বাজারের পাশেই একটি দুর্গন্ধযুক্ত পুকুরের ধারে বসেই প্রতিদিন লোহা পিটিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন কামাররা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই পুকুরে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার পাশাপাশি গরু জবাইয়ের রক্ত ও ভুঁড়িও পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া আশপাশের বাড়িঘরের আবর্জনাও সেখানে ফেলা হয়। ফলে অসহনীয় দুর্গন্ধের মধ্যেই সারাদিন কাজ করতে হচ্ছে তাদের।
কামারদের মধ্যে আজিজুল, আলমগীর, ফরিদ, আলামিন, রফিকুল, রোকন, আবুল, মোফা ও মজিবর দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তারা জানান, আগের মতো এখন আর কাজের চাপ নেই। কাঁচামালের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় আয় বাড়েনি।
বর্তমানে একটি নতুন চাপাতি বা দা তৈরি করতে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকা। পুরাতন দা বা চাপাতি মেরামতে খরচ পড়ছে ১০০ টাকা। এছাড়া বড় জবাইয়ের ছুরি তৈরি করতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ছোট ছুরি তৈরি বা ধার দিতে নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
কামার আজিজুল ইসলাম বলেন, “গত বছর ঈদের আগে ৪০ থেকে ৪৫টা চাপাতি বানাইছিলাম। এবার এখন পর্যন্ত ২০টার মতো বানাইছি। আগের মতো মানুষ নতুন জিনিস কম বানায়, পুরানোগুলাই ঠিক করে নেয়।”
আরেক কামার আলমগীর বলেন, “এবার ৪০-৪৫টা চাপাতি বানাইলেও তেমন কাজ নাই। বাজারে মানুষ কম, অর্ডারও আগের চেয়ে অনেক কম।”
তারা আরও জানান, কয়লা, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বাড়লেও সেই অনুযায়ী মজুরি বাড়ানো যাচ্ছে না। দিনভর আগুনের তাপ আর দুর্গন্ধের মধ্যে কাজ করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, বর্তমানে অনেকেই বাজার থেকে তৈরি করা কারখানার ছুরি ও চাপাতি কিনছেন। ফলে স্থানীয় কামারদের কাজ আগের তুলনায় কমে গেছে।
কামাররা বাজার এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও পুকুরটি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কিছু সরকারি সহায়তা পেলে ঐতিহ্যবাহী এ পেশাকে টিকিয়ে রাখা সহজ হবে।