অনুমোদন না মিললেও কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জিহাদ ফেরদৌস চমককে ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
জানা গেছে, জিহাদ ফেরদৌস চমক জেলা ছাত্রদলের নতুন ঘোষিত কমিটি ও চিলমারী উপজেলা কমিটির সম্পাদকীয় পদপ্রত্যাশী ছিলেন। বহিষ্কারের ফলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, “কলেজ মাঠে অনুমোদন ছাড়া পশুর হাট বসানোর অভিযোগ আমলে নিয়েই কেন্দ্রীয়ভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সোমবার দুপুরে চিলমারীতে সংবাদ সম্মেলন করেন জিহাদ ফেরদৌস চমক। তিনি দাবি করেন, কলেজ মাঠে হাট বসানোর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি লিখিত কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। শুধু টাকা জমা দেওয়ার রসিদ ও আবেদনপত্রের কপি প্রদর্শন করেন।
চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী বলেন, “আমরা কাউকে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিইনি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। স্টাফ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছিল।”
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষ গেটে তালা দিয়েছিলেন। সেই তালা ভেঙেই মাঠে হাট বসানো হয়েছে।”