• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
Headline
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৩ মা’দকসেবীর কারা/দ/ণ্ড; হাসপাতাল সিলগালা কুমিল্লায় সরকারি নির্দেশ অমান্য, দুই প্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা কুলিয়ারচরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় স্কুলছাত্রীকে মারধর, থানায় অভিযোগ জয়পুরহাটে রবিদাস সম্প্রদায়ের মাঝে ১১৬টি টুলবক্স ও ছাতা বিতরণ টুঙ্গিপাড়ায় এসএসসিতে দিশা পালের সাফল্যের ঝলক বৈরী আবহাওয়ায় হাতিয়ায় ৩ মাছধরা ট্রলার ডুবি রোমে হুইপ দুলুর সঙ্গে ইতালিস্থ নরসিংদী বিএনপির সৌজন্য সাক্ষাৎ ঠাকুরগাঁওয়ে চুরিতে বাধা নিরাপত্তাকর্মী হ/ত্যা আদালতে স্বীকারোক্তি পাঁচবিবিতে কেক কেটে দৈনিক করতোয়ার ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কুমিল্লা দাউদকান্দিতে ৩৫ কেজি গাঁজা উদ্বার। গ্রেপ্তার-১

কুলিয়ারচরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় স্কুলছাত্রীকে মারধর, থানায় অভিযোগ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় স্কুলছাত্রীর ভগ্নিপতির ভাড়াটিয়া বাড়িতে ঢুকে ছাত্রীকে মারধোরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের কান্দারবাড়ির কৃষক মো. মস্তোফা মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত অনিক মিয়া (১৯) কুলিয়ারচর পৌর এলাকার পূর্ব গাইলকাটা গ্রামের খোকন মিয়া ও মোছা. শারমিন দম্পতির ছেলে। সে একজন অটোরিকশা চালক। ছোট বেলা থেকেই সে মাধবদী গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে বড় হয়ে সেখানেই বসবাস করে আসছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে অনিক মিয়া প্রায় সময় ওই স্কুল ছাত্রীকে (১২) উত্ত্যক্ত করে আসছিলো। প্রতিদিনের ন্যার ১১ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে স্কুলের যাওয়ার পথে অভিযুক্ত অনিক মিয়া কর্তৃক ইভটিজিংয়ের শিকার হয় ওই ছাত্রী। এসময় ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করে বাড়ি এসে তার ভগ্নিপতিসহ বড় বোন ও মা-বাবাকে এ ঘটনা জানায়। সালিকার নিকট বিষয়টি জেনে ছাত্রীর ভগ্নিপতি অভিযুক্ত অনিক মিয়াকে পেয়ে তাকে বলেন আর যাতে তার সালিকাকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত ও বিরক্ত না করে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত অনিক মিয়া মঙ্গলবার সকালে লোহার রড নিয়ে ছাত্রীর ভগ্নিপতির ভাড়াটে বাড়ির আঙ্গিনায় এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে ছাত্রীর ভগ্নিপতি ও ছাত্রীর উপর হামলা করে এবং ছাত্রীকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধোর করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত অনিক মিয়ার হাত থেকে তাদের রক্ষা করে। যাওয়ার সময় অনিক মিয়া ওই ছাত্রী ও ছাত্রীর পরিবারের সদস্যসহ ভগ্নিপতিকে শাসিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। যেকোনো সময় আবারও হামলার আশঙ্কায় পুরো পরিবারসহ ছাত্রীর বোন ও ভগ্নিপতি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। লেখা পড়াও অনিশ্চিত হয়ে পরেছে শিশুটির।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শুধু নিজের সম্মান রক্ষায় প্রতিবাদ করেছিল। অথচ সেই প্রতিবাদের জেরে তার উপর হামলা ও মারধোরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। একজন স্কুলছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। তারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে অভিযুক্ত অনিক মিয়ার বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগ পেয়ে বুধবার বিকালেই কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত অনিক মিয়াকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অনিক মিয়া পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভগ্নিপতি বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখিয়ে বলেন, আমার সালিকাকে স্কুলে আসা- যাওয়ার পথে অভিযুক্ত অনিক মিয়া উত্ত্যক্ত ও অশালীন ভাষায় কথা বার্তা বলায় আমি ও আমার সালিকা প্রতিবাদ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অনিক মিয়া লোহার রড নিয়ে আমার ভাড়াটিয়া বাসায় এসে আমাদের উপর হামলা করে মারধোর করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত অনিক মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ছয়সূতী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মিনার মিয়া ও ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কাইয়ুম মিয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও দেখে বুঝতে বাকি নেই, কি কারনে ওই ছাত্রীকে মারধোর করা হয়েছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা ও শুনা যাচ্ছে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও ইভটিজিং করার বিষয়টি। তারাও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত অনিক মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

অভিযুক্তের আপন মামা মাছ শিকারী মো. কাজল মিয়া বলেন, আমার ভাগিনা অনিক মিয়া ওই স্কুল ছাত্রীকে দুইটি বাড়ি মারতে দেখেছি। কিন্ত কেন, কি কারনে মেরেছে তা আমি জানিনা।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অনিক মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এব্যাপারে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল মালেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ছাত্রীর বড় বোন কর্তৃক একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category