• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
ব্রাহ্মণপাড়া থানার অভিযানে ৮০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ বিয়ানীবাজারে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অ’ভিযোগে বৃদ্ধ গ্রে’প্তার মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে অসহায় বাবা মা বিয়ানীবাজারে তাওহীদার মৃ’ত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়, অ’ভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা পাঁচবিবি সীমান্তে বিএসএফের তারকাটার বেড়া দেওয়ার চেষ্টা, বিজিবির বাধা আমরণ অনশণ সফল করার লক্ষে,নীলফামারীতে প্রস্তুতি মুলক সভা জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃ’ত্যু গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের ১২শ’ নেতা-কর্মী যোগ দিলেন বিএনপিতে নওগাঁয় ডিসি-এসপি পরিচয়ে চাঁ’দাবাজি, আঞ্চলিক প্রতারক নাইম গ্রে’প্তার বাগেরহাটে ঘেরে লবণ পানি নিয়ে সং’ঘর্ষ, আ’হত ৫

নওগাঁয় ডিসি-এসপি পরিচয়ে চাঁ’দাবাজি, আঞ্চলিক প্রতারক নাইম গ্রে’প্তার

রাজেকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

নওগাঁ ও আশপাশের এলাকায় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে নাইম হোসেন (২৮) নামে এক আঞ্চলিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৩৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃত নাইম হোসেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নামা পোওতা এলাকার বাবু মিয়ার ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে বগুড়ার সান্তাহার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ মে এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিনি ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, তার বিক্রি করা ওষুধ সেবন করে এক শিশু মারা গেছে এবং মামলা এড়াতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। পরে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী নগদের মাধ্যমে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।

একইভাবে গত ৩০ মে ওই প্রতারক নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে এবং মামলা থেকে রেহাই পেতে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। এভাবেই তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আইসিটি শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনও পুলিশ সুপার, কখনও ওসি, কখনও জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবার কখনও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “কেউ যদি পুলিশ বা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোনে টাকা দাবি করে, তাহলে বিষয়টি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করবেন। প্রয়োজনে তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করুন এবং দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা পুলিশকে অবহিত করুন। প্রতারকদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।”

গ্রেপ্তারকৃত নাইমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category