নওগাঁর বহুল আলোচিত পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একজন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুরাতন মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার ভীমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) এবং মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নওগাঁ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর উপজেলার বারোমাসি বিল থেকে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় শফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশের একটি বিশেষ টিম।
তদন্তে জানা যায়, ব্যবসায় লাভবান হওয়ায় শফিকুল ইসলামের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুল এবং আরও এক সহযোগী তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ৭ জুন মান্দা উপজেলার সুতিহাট এলাকায় তারা হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুল ইসলামকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বলা হয়। পরে দুইটি মোটরসাইকেলে করে তাকে বারোমাসি বিলসংলগ্ন পারঘাটি ব্রিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহ কচুরিপানার নিচে গোপন করে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ সুপার বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে প্রথমে নওগাঁ শহরের একটি এলাকা থেকে জয়নুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জয়নুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যার পর নিহতের কাছে থাকা প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা তিন অভিযুক্ত নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয় এবং শফিকুল ইসলামের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল, নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।