বাগেরহাট সদরের মাথাভাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডের পানেরহাট-কে কেন্দ্র করে পিলজংগ ও রাখালগাছি ইউনিয়ন বিএনপি’র চার নেতার নামে মিথ্যা হয়রানী ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় পাশাপাশি দুইটি ইউনিয়নের শতশত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হয়রানি মূলক মামলাটি প্রত্যাহার পূর্বক মিথ্যা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার মাথাভাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডের পানেরহাটের তুচ্ছ একটি লীজ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত ২৯/০৩/২৬ ইং তারিখ রবিবার সকালে ফকিরহাটের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ছলেমান শেখ এর স্ত্রী মুসলিমা বেগম বাদী হয়ে মোকাম বাগেরহাট বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৫০০/৫০৬ (২) দঃ বিঃ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মাথাভাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডে খাজনা মুক্ত পানেরহাট বসালে বাদী হাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে– পিলজংগ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শেখ মিরাজুল ইসলাম (রাজ), ইউনিয়ন যুবদল নেতা শেখ দেলোয়ার হোসেন, রাখালগাছি ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ হাবিবুর রহমান ও ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আঃ ছালাম বিশ্বাস -কে।
ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করলে পুলিশ তাদেরকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে জামীন মুঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে মামলার আসামি আঃ ছালাম বিশ্বাস বলেন, আমরা খাজনা মুক্ত পানেরহাট বসানোর কারণে বাদী আমাদের কাছে তিন লক্ষ টাকা দাবি করেছিল কিন্তু আমরা টাকা না দেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। বাদী পূর্বে যে হাট বসিয়েছিল সেই হাটে কৃষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের খাজনা আদায় করা হত। কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা আমাদের নিজেদের জায়গায় খাজনা মুক্ত পানেরহাট বসিয়াছি। এতে করে কৃষক ও ব্যাপারী সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে পান ক্রয় বিক্রয় করছে।
মামলার বিষয়টি জানার জন্য ঘটনা স্থান পরিদর্শন করে সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করলে স্থানীয় চায়ের দোকানদার আবু হানিফ, মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, মাফুজুর রহমান ও পান ব্যবসায়ী মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, মামলার আরজিতে ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থানে যা যা উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তবে এরকম ঘটনা এখানে কখনো ঘটেনি। এ মামলাটি সম্পূর্ন সাজানো ও কাল্পনীক মাত্র, বাদী নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য এই মামলাটি দায়ের করেছেন। তারা মামলাটির সঠিক তদন্ত ও প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে দুইটি ইউনিয়ন বিএনপি’র শীর্ষ চরজন নেতার নামে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, পিলজংগ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সরদার বিল্লাল হোসেন, সাধারন সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন জুয়েল, রাখালগাছি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ফকির আল মামুন মামুন টিপু ও সাধারন সম্পাদক খান গোলজার আলী’সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।