কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এর ফলে গত পাঁচ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। বাধ্য হয়ে তাদের অন্য বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পৌর শহরের চন্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় সম্প্রতি এই ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন:- মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫), ও মিজান মিয়া (৩০)। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এই ৬ জনের নাম উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির মাঝখানের চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। বংশপরম্পরায় এই রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছিলেন তিনটি পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ঘরবন্দি হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।
ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমরা ৬ ভাই ও আমাদের সন্তানরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রনিসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের পরিবারের দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়া কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নিয়ে তারা আমাদের বাড়ি স্থাপনা, টয়লেট ভেঙে বসত বাড়ি দখল করে নেয়। তারপর তারা আমার তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যার কারণে আমরা চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের বাকী ভাইদের বাড়ির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দূর্ভোগে ফেলেছে।
আমরা আমাদের নিজ পৈত্রিক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না।
আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, শফিকুল রহমানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে এই বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষমতা দেখায় এবং বলে-আমাদের বিচার করার কেউ নেই। যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলে তাদের নামও নেই।
ভূমিদস্যু মাহমুদুল হাসান রনির সাথে যোগসাজশ করে শফিকুল ইসলাম, তাহের মিয়া ও নুরু মিয়ারা এই অপকর্ম চালাচ্ছে। আমরা এর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং চলাচলের জন্য আমরা আমাদের জায়গা উন্মুক্ত চাই।
অভিযুক্তদের একজন মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, আমরা একজন ওয়ারিশ বাদে বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গা করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।