প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ব্যাপক বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক আরিফ উজ জামান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের ডুবুলা সড়কে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী পর্বে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে সবুজায়নের এই মহতী উদ্যোগের সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আরিফ উজ জামান বলেন,
“আজকের একটি গাছ আগামী দিনের অক্সিজেন, ছায়া ও জীবনের নিশ্চয়তা। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে এখনই ব্যাপকভাবে বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি গাছকে সন্তানের মতো যত্ন নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন,“বৃক্ষ মানুষকে শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমায় এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”
এ সময় পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাছ রোপণ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশ, খালি জমি ও বাড়ির আঙিনায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবিরুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মতিয়ার মোল্লা সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ ছালাম খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিকুল ইসলাম রাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান মিন্টু সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে জেলা প্রশাসক নওহাটা আব্দুল রহিম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সবুজে ঘেরা একটি সুন্দর আগামী বিনির্মাণের প্রত্যয়ে আয়োজিত এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে।