মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের এক দিনে পানিতে ডুবে দুই শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ও বিকেলে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়নের পূর্ব নোয়াগাঁও (জানাউড়া) গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে রাফি (৭) বাড়ির পুকুরে ডুবে যায়। পরে মরদেহ ভেসে ওঠলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) আবুল খায়ের সিদ্দিকী মুরাদ বলেন, “শনিবার সকালে শিশু রাফি ঘুম থেকে ওঠে তার পরিবারের অলক্ষ্যে বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার নিথর দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
অপরদিকে বিকেল ৪টার দিকে পৌর শহরের সোনা মিয়া সড়কের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস আলীর শিশুকন্যা জামিনা ফেরদাউস জারা (২৮ মাস) খেলতে গিয়ে বাসার পুকুরে ডুবে যায়। এলাকার অপর এক শিশু বিষয়টি দেখতে পেয়ে তার পরিবারকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানান। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাভিদ রাইয়ান বিন শহীদ বলেন, “সকালে ও বিকেলে পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাদের স্বজনরা। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তারা মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করি।”
শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “খেলতে গিয়ে শিশুরা পুকুরে ডুবে মারা গেছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”