• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
Headline
মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে-মির্জা ফখরুল মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধে গোপালগঞ্জে সভা নাসিরনগরে কাচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা মধ্যরাতে মহাসড়কের পাশে মিলল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ কুমিল্লা দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযানে গ্রে’প্তার ৩ এআই প্রযুক্তিতে ছবি ও কণ্ঠ বিকৃত করে অপপ্রচার,থানায় ভুক্তভোগীর জিডি গোপালগঞ্জে আপিল খারিজ, সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাজা বহাল রাখল আদালত সিকদার লেলিনের বিরুদ্ধে অপ’প্রচার, নিন্দা ও ক্ষোভ কুমিল্লা দাউদকান্দি হ’ত্যা মামলার আসামিসহ ৬ জন গ্রে’প্তার, ইয়াবা উদ্ধার বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি, ইউএই-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

রায়পুরে মা ও তিন কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

শাহিনুর বেগম ও তার তিন কন্যা। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি আবাসিক ভবনে প্রবেশ করে মা ও তার তিন কন্যাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ও মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন কন্যা সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিপা আক্তার (৮)। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)।

বিকেলে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, ঘটনার পর আহত অবস্থায় পাঁচজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল। নিহত শাহিনুর বেগম ও তার তিন কন্যার শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। বিশেষ করে মেজো মেয়ে ইকরার আঘাত ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ; তার ফুসফুস পর্যন্ত বাইরে থেকে দৃশ্যমান ছিল।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রথমে শাহিনুর বেগম, তার বড় মেয়ে সায়মা এবং ছোট মেয়ে শিপাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় মেজো মেয়ে ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ঘাতক অন্তর মজুমদারের মাথায়ও গুরুতর আঘাত ছিল। তাকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর আগে একই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। আনুমানিক সাত থেকে আট মাস আগে তিনি সেখান থেকে বাসা পরিবর্তন করে চলে যান।
পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে তিনি অনায়াসে বাসায় প্রবেশ করে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদঘাটিত হয়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, এ মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ছেলে সিফাত তার মা ও তিন বোনকে একসঙ্গে হারিয়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তার শোক ও আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category