গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়ে ব্যবসায়ী স্বামীকে এলোপাতাড়ি মারধর, গুরুতর আহত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কথিত জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন শ্যামল শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং এলাকায় নিজেকে জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিজের নিরাপত্তার দাবিতে আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোস্তফা মৃধা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী মোস্তফা মৃধা জানান, গত ২৫ মে তিনি তার নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও অভিযুক্ত মোবারক হোসেন শ্যামলকে আপত্তিকর অবস্থায় (একই কক্ষে দীর্ঘক্ষণ অবস্থানকালে) হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এই অনৈতিক সম্পর্কের তীব্র প্রতিবাদ জানালে মোবারক হোসেন শ্যামল ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ী মোস্তফার ওপর চড়াও হয়। তারা তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে ফিরে আজ সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ব্যবসায়ী মোস্তফা মৃধা বলেন:
”মোবারক হোসেন শ্যামল মূলত প্রকৃত জামায়াত নেতা না হলেও এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য এই পরিচয় ব্যবহার করেন। আমার স্ত্রীর সাথে তার অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ওই কথিত নেতা ও তার সহযোগীরা আমার ব্যবসায়িক সমস্ত টাকা-পয়সা ও সম্পদ আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছে এবং আমাকে যেকোনো উপায়ে খুন করার হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শ্রীপুর পৌর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কথিত এই নেতার অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মোবারক হোসেন শ্যামলসহ তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।