ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা ১০৭ পিস ভারতীয় শাড়িসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার (২২ মে) উপজেলার বরাক এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জব্দকৃত শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটককৃতরা হলেন— উপজেলার ডাকিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. হাফিজ উদ্দিন (২৬) এবং একই গ্রামের আজগর আলীর ছেলে মো. মাহবুব (৩০)।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সীমান্ত পথে চোরাচালান রোধে তৎপর ছিল প্রশাসন। শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ ও হালুয়াঘাট থানা পুলিশের একটি যৌথ দল উপজেলার বরাক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
এসময় গাবরাখালি থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে অটোরিকশায় থাকা চারটি বস্তা থেকে ১০৭ পিস চোরাই ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চোরাচালানের অভিযোগে অটোরিকশায় থাকা দুই যুবককে আটক এবং অটোরিকশাটি জব্দ করে পুলিশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সীমান্ত পথে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধির খবর আমাদের কাছে ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করি। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড ও চোরাচালান রোধে আমাদের এই অভিযান ও প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি পণ্য আনা ও চোরাচালানের অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।