গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নে সরকারি অর্থে নির্মিত গাইড ওয়াল কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বড় ভাটরা ৯১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার সড়কের পাশে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানেরসামগ্রী ব্যবহার, দুর্বল তদারকি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের কারণেই নতুন নির্মিত ওয়ালটি ধসে পড়েছে।
স্থানীয় শহীদ শেখের বাড়ির পাশের সড়ক প্রশস্তকরণের অংশ হিসেবে গাইড ওয়ালটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়।
তবে প্রকল্পের প্রকৃত বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। কাজের দায়িত্বে থাকা সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার হাসি বেগম বলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দো, আমি পেয়েছি ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এই টাকায় আমিআর কতো ভাল কাজ করবো।
এলাকাবাসী শহীদ শেখ, শাহ আলম, মুক্তা বেগম ও সাবিনা অভিযোগ করে বলেন, নিম্নমানের বালু ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের সময় কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যকর তদারকি ছিল না বলেও দাবি করেন। তাদের মতে,প্রকল্পের বরাদ্দের বড় একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিম্নমানের কাজ বাস্তবায়িত হয়। ফলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আর রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হচ্ছে অব্যাহতভাবে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে যদি সঠিকভাবে মনিটরিং করা হতো, তাহলে নতুন নির্মিত একটি গাইড ওয়াল এত দ্রুত ধসে পড়তো না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন,
গাইড ওয়াল ধসে পড়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত কারণ তদন্ত করা হবে। যদি নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।