দুর্গম পাহাড় আর আঁকাবাঁকা দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যেখানে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানোই কঠিন, সেখানে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে লোগাং জোন (৩ বিজিবি)। কেস্টমনিপাড়া এলাকার ছনের ঘরে বসবাসকারী অসহায় পাহাড়ি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত। পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ছাব্বিশ কিলোমিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করে চিকিৎসা নিতে যাওয়া স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
এমন বাস্তবতায় পানছড়ি ব্যাটালিয়ন ৩ বিজিবির আওতাধীন লোগাং জোন মানবিক উদ্যোগ হিসেবে আয়োজন করে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইনের। জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলামের দিক নির্দেশনায় পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হয়।
লোগাং জোন (৩ বিজিবি)’র মেডিকেল অফিসার মেজর মোঃ নাঈমুল মুশফিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিজিবির এই মানবিক কার্যক্রম স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি এনে দেয়। চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের মুখে ফুটে উঠে স্বস্তির হাসি, আর কৃতজ্ঞতার ভাষায় তারা জানান— দুর্গম পাহাড়ে বিজিবির এই সেবা তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, মানবিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও বিজিবি যে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে, পানছড়ির দুর্গম পাহাড়ে পরিচালিত এই চিকিৎসা সেবাই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
লোগাং জোন (৩ বিজিবি)’র মেডিকেল অফিসার মেজর মোঃ নাঈমুল মুশফিক বলেন,
পানছড়ি উপজেলার দুর্গম কেস্টমনি পাড়ায় আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীর মধ্যে হাঁটু ও কোমর ব্যথা, পেটের সমস্যা, আলসার, সর্দি-কাশি এবং চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-ঠান্ডা ও ডায়রিয়ার সমস্যা বেশি লক্ষ করা গেছে।
স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। সঠিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা পৌঁছে দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।