টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঁদা না দেয়ায় এক ব্যবসায়িকে মারপিট করে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে চাঁদাবাজরা ও একই সাথে তার দোকানসহ মোট চারটি দোকান ভাংচুর করার তথ্য পাওয়া গেছে।
রবিবার(১০ মে) বিকেলে মধুপুর উপজেলার পৌরসভাধীন ২ নং ওয়ার্ড জটাবাড়ী(মহিষমারা মোড়) বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী আহত রফিকুল ইসলাম জানান, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে রফিকুল ইসলাম(৪২) দীর্ঘদিন যাবৎ জটাবাড়ী(মহিষমারা) মোড় বাজারে পাটের তৈরি খালি ছালা (বস্তার) ব্যবসা করে আসতেছে। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর হতে জটাবাড়ী চেয়ারম্যান বাড়ী মোড় এলাকার হাবিব, মানিক,মুক্তার,নিঝুম ও আবদুল্লাহসহ কয়েকজন মিলে নিয়মিত আমার দোকানে এসে টাকা চাইতো। মাঝে মধ্যে আমি তাদেরকে ৪/৫ হাজার করে দিতাম। কিন্তু ঘটনার দিন বিকেলে আমি বস্তা বিক্রি করে টাকা নিয়ে দোকানে অবস্থান করতেছি এমন সময় ওরা দল বল নিয়ে এসে আমার নিকট ৯০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে সকলে মিলে আমার উপর আক্রমণ করে আমার বাম হাত ভেঙ্গে দেয় এবং আমার কাছে থাকা সাত লাখ টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় দোকানের সিসি ক্যামেরা, মনিটর,টেবিল,গ্লাসসহ আসবাবপত্র ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান,বিকেল বেলায় বাজারে রফিকের দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি মানিক, মুক্তার ও নিঝুমরা এসে রফিকুলের নিকট টাকা চাইতেছে। টাকা দিতে না চাইলে দোকানদাকে ওরা সবাই মিলে মেরে তার হাত ভেঙ্গে দেয়। এছাড়াও বাজারে চায়ের দোকানসহ আরো তিনটি দোকান ভাংচুর করে তারা। অপর একজন জানান, তারা বাজার থেকে যাওয়ার সময় বলে যায় এখানে ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিয়ে করতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মানিক ও হাবিবের সাথে কথা বললে তারা জানান, রফিকুলের অভিযোগ ভিত্তিহীন, মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় তার হাত ভেঙ্গে গেছে। দোকান ভাংচুরের বিষয়ে তারা জানান, মানিক মিয়াকে রফিকুল ইসলাম অপমান করার কারনে এলাকার ছোট ভাইয়েরা রাগান্বিত হয়ে এই কাজ করছে।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, দোকান ভাংচুর ও মারপিটের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।