• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
Headline
ভৈরবে ভবানীপুরে দুই গ্রুপে সং’ঘর্ষ, আ’হত ৪০,ভা’ঙ’চুর-লুটপা’ট নিসচা ভৈরবের ফুলেল শুভেচ্ছায় হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দেলোয়ার হোসেন মিঞা এলাকাবাসীর খাবার পানির পুকুরে বিষ প্রয়োগ, ভেসে উঠলো চাষের মাছ বর্নি ইউনিয়নে নারী সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আ’ত্ম’সাতের অ’ভিযোগ মধুপুরে চাঁদা না দেয়ায় মারপিট দোকান ভাংচুর নওগাঁয় গৃহবধূকে ধ’র্ষণের চেষ্টা, এক ব্যক্তি গ্রে’প্তার গাজীপুরে সাংবাদিক পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, সভাপতি রহমান সম্পাদক নাসির গণরায় পাশ কাটাতে চাইলে জুলাই যোদ্ধারা আবারও রাজপথে নামবে : সেলিম দুর্গম পাহাড়ে ৩’ বিজিবির চিকিৎসা সেবা ও বিনামুল্যে ঔষধ প্রদান। বেলাবোতে ৩শত ৬৬ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

ভৈরবে ভবানীপুরে দুই গ্রুপে সং’ঘর্ষ, আ’হত ৪০,ভা’ঙ’চুর-লুটপা’ট

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রথম দফায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস, দ্বিতীয় দফায় ম্যাসেঞ্জারে হুমকি দিয়ে সংঘর্ষের পর এবার তৃতীয় দফায় ফেসবুকে লাইভে অকথ্য ভাষায় গালাগালির জেরে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী পুরুষসহ ৪০ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও একাধিক দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

আজ ১৬ মে সকালে শনিবার উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুরের সোলাইমানপুর এলাকায় মেরাজ মেম্বারের সাথে ভবানীপুর নামাপাড়ার বাদশা মেম্বার গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে ৭ মে ও ৮মে ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও হুমকি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার এসআই পাবেল মোল্লা।

সংঘর্ষ আহতদের মধ্যে হৃদয় (৩০), নৌরিন বেগম (৩২), পারভেজ মিয়া (৩০), সুবর্ণা বেগম (২৪), দুধ মিয়া (৩০), সাগর মিয়া (৩০) জনি মিয়া (২২), হাসান মিয়া (১৭), নাইম ইসলাম (২৪), জীবন মিয়া (২০), অপু মিয়া (২২), বাবুল মিয়া (৫০), হৃদয় মিয়া (২৫) ও ইমরান মিয়া (২৬) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে পারভেজ মিয়া ও সুবর্ণা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বাদশা মেম্বার গ্রুপের পাবেল (২২) ও বিজয় (১৯) কে ঢাকায় পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। ইমরান মিয়া, দানিস মিয়া, রাসিদ মিয়া, স্বপন মিয়া, মোমেন মিয়া, কবির মিয়া ও সোহাগ মিয়াসহ উভয় পক্ষের ৪০ জন আহত হয়েছে। তারা সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ভৈরবের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবত সোলাইমানপুরে একই বংশের মধু মুন্সি বাড়ির সাথে দিল মোহাম্মদের বাড়ির দ্বন্দ্ব চলছিল। মধু মুন্সি বাড়ির ফরহাদ মিয়া নামে এক যুবক ফেসবুকে পক্ষপাতিত্ব নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদী আরবে দিল মোহাম্মদের বাড়ির আনোয়ার এর সাথে মধু মুন্সি বাড়ির ফরহাদের ঝগড়া হয়। দুই সপ্তাহ আগে ফরহাদ দেশ আসলে একই ঘটনা নিয়ে ৭ মে ও ৮ মে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। দুইপক্ষের মধ্যে দিল মোহাম্মদের বাড়ির সাথে যোগ দেন ভবানীপুর নামাপাড়া এলাকার বাদশা মেম্বার গ্রুপ।

এদিকে ১৩ মে বুধবার ঝগড়ার মিমাংসা হওয়ার পর ভবানীপুর এলাকার বাদশা মেম্বার গ্রুপের সাথে দিল মোহাম্মদের বাড়ির মেরাজ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে ঝগড়ার রেশ থেকে যায়। ১৫ মে রাতে দুই পক্ষ বাজারে গেলে বাদশা মেম্বার পক্ষ মেরাজ মেম্বার পক্ষকে ফেসবুকে এসে লাইভে গালমন্দ করার অভিযোগ তুলে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়ে একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। বিষয়টি স্থানীয়ার রাতেই মিমাংসার চেষ্টা করে। পরদিন শনিবার সকালে বাদশা মেম্বার গ্রুপ মেরাজ মেম্বার গ্রুপের উপর হামলা করলে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সংঘর্ষে রুপ নেয়। এতে করে সংঘর্ষটি ব্যাপক আকার ধারণ করে। ঘণ্টাব্যাপী চলা টেঁটা ও ইটপাটকেল ছুড়া যুদ্ধে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ ৪০ জন আহত হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে মেরাজ মেম্বার বলেন, আমাদের একই বংশের ঝগড়াটি দুই দিন আগে মিটমাট হয়েছে। আজকে আমরা বসে মামলাগুলো শেষ করার আলোচনার দিন ধার্য্য করেছিলাম। কিন্তু বাদশা মেম্বার আমাদের প্রতিপক্ষের সাথে যুক্ত থেকে আমাদের প্রতিপক্ষকে ইন্দন দিয়ে যাচ্ছিল। বাদশা মেম্বার গ্রুপ আমাদের মিমাংসার বিষয়টি মেনে নেয়নি। ১৫ মে শুক্রবার রাতে আমাদের বংশের আতর মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া বাজারে গেলে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায় বাদশা মেম্বার গ্রুপের লোকজন।

শনিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় রাস্তার পাশে থাকা আতর মিয়ার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করে বাদশা মেম্বারের পক্ষের লোকজন। সংঘর্ষে আমাদের পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদশা মেম্বার বলেন, সুলাইমানপুরে একই বংশের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার মিমাংসা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার আমাকে জড়িয়ে মেরাজ মেম্বারের পক্ষের এক যুবক ফেসবুকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের বাড়ির লোকজনের উপর মেরাজ মেম্বারের বাড়ির লোকজন হামলা করে। এতে মারামারির ঘটনায় আমাদের বংশের দুইজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এছাড়া সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই পাবেল মোল্লা বলেন, ১৫ মে রাতে মেরাজ মেম্বার গ্রুপের সাথে বাদশা মেম্বার গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। রাতেই আমার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ১৬ মে শনিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় তারা সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইতিমধ্যে দুই পক্ষেরই মামলা হয়েছে। শনিবার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজকের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category