বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, জুলাই বিপ্লব দেশ ও জাতিকে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে। কিন্তু সরকার এখন জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর নানা অপযুক্তি ও কুযুক্তি উপস্থাপন করছে, যা গণরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধার শামিল। তিনি সরকারকে টালবাহানা বন্ধ করে অবিলম্বে জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় জুলাই যোদ্ধারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে নামবে বলেও মন্তব্য করেন।
শনিবার (২৬ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আলহেরা মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত ইউনিয়ন আমীর/সভাপতি ও সেক্রেটারিদের একদিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমীর মোবারক হোসাইন-এর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দারসুল কুরআন পেশ করেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা নাজমুল আলম আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জোনায়েদ হাসান, রাজিফুল হাসান বাপ্পী, কাজী সিরাজুল ইসলাম, আবুল বাশার ভুইয়া, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো: রোকন উদ্দিন ও মো: খুরশিদ আলম প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, “একটি সফল ও কার্যকর বিপ্লবের জন্য একদল সৎ, যোগ্য ও তাকওয়াবান মানুষের প্রয়োজন। জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে অধঃস্তন সংগঠনগুলো সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছে। মূলত অধঃস্তন সংগঠনই মূল সংগঠনের জীবনী শক্তি।
তিনি আরও বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তৃণমূল সংগঠনগুলোকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টি এবং বৈষয়িক ও ইসলামী জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে অধ্যবসায়ী হতে হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন সংগঠনকে দাওয়াতের সূতিকাগার ও ইসলামী আন্দোলনের দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করতে হবে।”
তিনি দেশকে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।