মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবর্তে শ্রেণিকক্ষকে ব্যক্তিগত বসতঘর ও ভাতের হোটেল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরজমিন দেখা যায় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে খাট-বিছানা, রান্নার চুলা, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী রাখা হয়েছে। এমনকি সেখানে নিয়মিত লোকজনের অবস্থানও দেখা যায় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিভাবকদের দাবি, যেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান হওয়ার কথা, সেখানে চলছে বসবাস ও রান্নাবান্না। একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ এভাবে দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করাকে তারা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সুনামও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তারা দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বনিক বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“দুই-একদিনের মধ্যেই শ্রেণিকক্ষ থেকে সব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর বলেন,
“বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন,
“সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শিক্ষা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”