মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তার আমিনুল ইসলামের বাসায় ব্যালকনি থেকে পড়ে হালিমা (১৫) নামে এক গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ২২ মে শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গৃহকর্মীর হালিমা আমিনুল ইসলামের বাসায় দীর্ঘ ১৪ থেকে ১৬ বছর যাবত কাজ করে আসছে। নিহত হালিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল গ্রামের আক্কাস আলীর মেয়ে। হালিমা আক্তার বাবা আক্কাস আলী সিলেটে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তারা বাইরে বের হয়ে দেখেন বাসার নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ওই কিশোরী। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এলাকাবাসীর অনেকেই দাবি করেন, মেয়েটি ব্যালকনি থেকে পড়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালিমা ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। শুক্রবার দুপুরে বাসার ছাদে ময়লা ফেলতে গেলে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, মৌলভীবাজার এ নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হালিমা আক্তারের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কেউ বলে ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে, কেউ বলে ব্যালকনি থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আবার কেউ বলে ঘরের ভেতরে মারা হয়েছে। আমি তো কিছুই জানি না, আমি তো নিজের চোখে কিছু দেখিনি।”
ভাড়াটিয়া অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তার আমিনুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুনে আমরা বাইরে এসে দেখি হালিমা নিচে পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
নিহত হালিমা আক্তারের বাবা আক্কাস আলী জানান, জীবিকার তাগিদে কয়েক মাস ধরে ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করছিল সে। পরিবারের দাবি, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটলো তা তারা সঠিকভাবে জানেন না।
ভাড়াটিয়া অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তার আমিনুল ইসলামের স্ত্রী জানান, “মেয়েটি আমাদের বাসায় কাজ করতো। আমরা নিজের সন্তানের মতোই দেখতাম। “আমি তো ঘুমাইছিলাম। আমি তখন বাথরুমে গেছিলাম, ওযু করে নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।কীভাবে এমন হলো বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।