ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পনগরী গাজীপুর। জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার—পরিজন রেখে কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও তাদের ফিরতি যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ঢাকা—টাঙ্গাইল ও ঢাকা—ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা চৌরাস্তা এলাকায় গাজীপুরমুখী মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রীদের চাপও বাড়তে শুরু করেছে।
জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে টানা আট থেকে দশ দিনের ছুটিতে গাজীপুরে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই তারা কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে অনেক শিল্পকারখানা এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশের ফেরা এখনও বাকি রয়েছে।
রংপুর থেকে ফেরা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর আবার কাজে যোগ দিতে গাজীপুরে ফিরেছেন। তিনি বলেন, গ্রামে ছয় দিন ছিলাম। হাতে থাকা টাকাও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তাই আগেভাগেই চলে এলাম। আগামীকাল থেকে কাজে যোগ দেব।
অন্যদিকে নেত্রকোনা থেকে ফেরা পোশাকশ্রমিক রোজিনা আক্তার বলেন, দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে আসাটা কষ্টের হলেও জীবিকার প্রয়োজনে কাজে ফিরতেই হয়। তিনি আরও জানান, বাড়ি যাওয়ার সময় অতিরিক্ত ভাড়া ও যানজটের ভোগান্তি থাকলেও ফেরার পথে যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ছিল।
এদিকে মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলম। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ গাজীপুরে ফিরছেন। তবে এখন পর্যন্ত মহাসড়কে উল্লেখযোগ্য কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফেরার ধারাবাহিকতায় শিল্পনগরী গাজীপুর আবারও তার পরিচিত কর্মব্যস্ত রূপ ফিরে পেতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অধিকাংশ শিল্পকারখানা পুরোপুরি চালু হলে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে আরও গতি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।