• মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
Headline
শ্রীমঙ্গলের সন্তান বিসিবি পরিচালককে স্বাগত জানাতে নিজ এলাকায় আনন্দ মিছিল টংক আন্দোলনের ইতিহাস সংশোধনে সিপিবির প্রস্তাবনা মধুপুরে কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কারিতাসের ‘সংলাপ’ প্রকল্পের যাত্রা ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ পুশইনের শঙ্কায় ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী কুমিল্লায় গত দুই মাসে ২৭ খু’ন, ১০৫ জনের অপমৃ’ত্যু পাঁচবিবিতে আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন জানিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত বেলাবোতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন দাউদকান্দিতে চু’রি, কসবায় মিলল মোটরসাইকেল; আ’টক ১ কোটালীপাড়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হ’ত্যা’র অ’ভিযোগ,স্বামী পলাতক

বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে থেমে গেল তোফায়েলের জীবন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

কসবায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারানো তরুণকে ঘিরে শোক

সন্ধ্যা নেমে আসছিল। কসবা রেলস্টেশনে তখন ছিল দিনের শেষভাগের ব্যস্ততা। কেউ ট্রেনের অপেক্ষায়, কেউবা আড্ডায় মগ্ন। সেই ভিড়ের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ২০ বছরের তরুণ তোফায়েল আহমেদ। কয়েক মুহূর্ত পর যে তিনি অন্য একজনকে নতুন জীবন দিয়ে নিজেই মৃত্যুর কাছে হার মানবেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (০৪জুন)সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এখন মানুষের মুখে মুখে। রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধকে দ্রুতগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তোফায়েল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে স্টেশনে ঘুরতে এসেছিলেন তোফায়েল। এ সময় স্টেশনের এক লাইনে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রেন থেকে নেমে এক বৃদ্ধ অসাবধানতাবশত মাঝখানের লাইনের ওপর গিয়ে দাঁড়ান। বয়সের ভার কিংবা শ্রবণ সমস্যার কারণে তিনি বুঝতেই পারেননি যে একই সময়ে অন্য লাইন দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস।
হর্ন বাজছিল। আশপাশের লোকজন চিৎকার করছিলেন। কিন্তু বৃদ্ধের কোনো সাড়া ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হঠাৎ দৌড়ে যান তোফায়েল। এক মুহূর্তও চিন্তা করেননি নিজের নিরাপত্তার কথা। লাইনের ওপর উঠে বৃদ্ধকে জোরে ধাক্কা দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেন তিনি। কিন্তু বৃদ্ধকে সরিয়ে দেওয়ার পর নিজে আর সরে দাঁড়ানোর সময় পাননি।
পরক্ষণেই দ্রুতগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন তিনি।
স্থানীয় লোকজন ও বন্ধুরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তোফায়েলের মৃত্যুর খবরে আকছিনা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশীরা জানান, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও সাহায্যপ্রবণ একজন তরুণ। কারও বিপদ দেখলে এগিয়ে যাওয়া ছিল তার স্বভাব।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনার দিন সকালেও স্টেশনে এক যাত্রীকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে সতর্ক করে রক্ষা করেছিলেন তোফায়েল। সন্ধ্যায় আরেকজনকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনই হারাতে হলো তাকে।
কসবা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ মিয়া বলেন, “একজন বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে যুবকটির মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক।”
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের আবেদনের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যে বৃদ্ধকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন তোফায়েল, তিনি এখন জীবিত। কিন্তু তাকে বাঁচানোর সেই কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই কেড়ে নিয়েছে এক তরুণের পুরো জীবন।
মানুষের জীবনে কিছু মৃত্যু থাকে, যা শুধু মৃত্যুর খবর নয়; হয়ে ওঠে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কসবার তরুণ তোফায়েলের মৃত্যু হয়তো তেমনই একটি গল্প—যেখানে একজন মানুষ বেঁচে গেছেন, কারণ আরেকজন নিজের জীবনের চেয়েও বড় মনে করেছিলেন অন্যের জীবনকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category