• মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
Headline
শ্রীমঙ্গলের সন্তান বিসিবি পরিচালককে স্বাগত জানাতে নিজ এলাকায় আনন্দ মিছিল টংক আন্দোলনের ইতিহাস সংশোধনে সিপিবির প্রস্তাবনা মধুপুরে কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কারিতাসের ‘সংলাপ’ প্রকল্পের যাত্রা ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ পুশইনের শঙ্কায় ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী কুমিল্লায় গত দুই মাসে ২৭ খু’ন, ১০৫ জনের অপমৃ’ত্যু পাঁচবিবিতে আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন জানিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত বেলাবোতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন দাউদকান্দিতে চু’রি, কসবায় মিলল মোটরসাইকেল; আ’টক ১ কোটালীপাড়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হ’ত্যা’র অ’ভিযোগ,স্বামী পলাতক

গাজীপুরে ঝাড়ফুঁকের নামে অচেতন, ইমামের বিরুদ্ধে ধ’র্ষণ অ’ভিযোগ

মো.মমিনুর রহমান খান লিকু, গাজীপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় মেয়ের পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে ঝাড়ফুঁকের নামে এক নারীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর।

ভুক্তভোগী ওই নারী (৪০) অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাদী (৫০) নিজেকে মসজিদের ইমাম ও কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার মেয়ের পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এ কথা বলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে মোট ৮১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গত ২৮ মার্চ সকালে ভবানীপুর এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তাকে একটি ঘরের ভেতরে যেতে বলা হয়। সেখানে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে তাকে একটি “ঔষধ” খাওয়ানো হয়। ওই নারী তা খাওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন।

ঘটনার পর প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং “কালো জাদু” দিয়ে মেয়ের সংসার ভেঙে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানান। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের জানালে বিষয়টি থানা পুলিশের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়।

তবে অভিযোগ দায়েরের তিন দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেনি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কবিরাজ ও ধর্মীয় পরিচয়ে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে বিতর্কের কারণে তাকে স্থানীয় মসজিদের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর পাশের গ্রামের স্থানীয় আরেকটি মসজিদে বর্তমানে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুল হাদী-এর পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন রঞ্জন তালুকদার জানান, অভিযোগটি গুরুত্বদিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category