• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
সাতক্ষীরা তরুণীর সঙ্গে ভিডিও ভাইরাল,জামায়াত এমপি বললেন দ্বিতীয় স্ত্রী আপনাদের দোয়া ও পরামর্শ নিয়েই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ,হাসনাত আবদুল্লাহ বাগেরহাটে ব্যানার নিয়ে মিছিলের চেষ্টা ছাত্রলীগের ১৭ কর্মী আটক বৃন্দাবন সরকারি কলেজের নতুন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম হারুনুর রশীদ ১০ পুলিশ সদস্যের বদলী উপলক্ষে ভৈরব হাইওয়ে থানায় বিদায় সংবর্ধনা ও ক্রেষ্ট প্রদান অষ্টগ্রামে পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ গ্রেফতার ৫ জকিগঞ্জে ৫ কোটি টাকার ফ্লাড সেন্টারের নির্মাণকাজ শুরু হবিগঞ্জে কলেজছাত্রী অচেতন অবস্থায় উদ্ধার, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা ভৈরবে ১০ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন গ্রেফতার পাঁচবিবিতে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কুলিয়ারচরে জুয়েল হত্যা নিয়ে ক্ষোভ: ন্যায়বিচারের দাবিতে উক্তাল বড়চারাবাসী

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় নির্মমভাবে নিহত অটোরিকশা চালকের পুত্র জুয়েল মিয়া (২০) হত্যার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে হত্যা কাণ্ডের ঘটনাস্থ বড়চারা গ্রামের ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত খুনীদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপর দিকে মামলায় কিছু নিরপরাধ ব্যক্তিকে জড়ানো হয়েছে দাবী করে এদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবীও জানানো হয়েছে।

গত ২০ জুলাই রোববার বাদ আছর উপজেলার আগরপুর-পোড়াদিয়া হাইওয়ে রাস্তার বড়চারা নতুন বাজার রাস্তার ওপর “১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের সর্বস্থরের জনগন’ ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বড়চারা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামছুল আলম ওরুফে এলেম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো. ইমরান খান ও ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনের ভাই শাহ্ আলমের নেতৃত্বে বড়চারা ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলে স্লোগান তোলে “সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুটিয়ে দাও, খুনিদের ঠিকানা বড়চারা হবেনা, জুয়েল হত্যার বিচার চাই-বিচার চাই, নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি চাই-মুক্তি চাই।”

মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামছুল আলম উরুফে এলেম জুয়েল হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবী করে বলেন, দুইদিন আগে কিশোরগঞ্জ আদালত থেকে জুয়েল হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার নকল তুলে জানতে পারেন এ মামলায় তাকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী ছেলে তৌকিকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ভাতিজা ছায়িম মিয়াকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে এবং নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. সানিকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৯ নং আসামি সোহান মিয়া ঢাকায় ছিলেন এমন দাবী করেন। তারা কেউ জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত নয় দাবী করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ মামলা থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবী জানান তিনি।

মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছা সেবক বিষয়ক সম্পাদক মো. নাদিরুজ্জামান খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহুল হক খোকা, বিএনপি নেতা মো. সেলিম মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সাফি উদ্দিন ও ইউনিয়ন তরুণ দলের সাবেক সভাপতি মো. নাঈম আনোয়ার সহ বড়চারা ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
এসময় বক্তারা “জুয়েলকে যারা খুন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবি করে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

এর আগের দিন শনিবার বাদ আছর একই স্থানে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে ও বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা জুয়েল হত্যার ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার দাবী জানান।

এরও আগে গত ১৩ জুলাই সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আগরপুর-পোড়াদিয়া হাইওয়ে রাস্তার লক্ষ্মীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ওপর ‘ঐক্যবদ্ধ লক্ষ্মীপুরের জনগণ’ ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লক্ষ্মীপুর ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তার ওপর বাঁশ বেঁধে ও শুয়ে এবং টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে বিকেল সোয়া ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি প্রভাবশালী মহল পুরো বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। “কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত করা যাবে না।

এর আগে গত ১১ জুলাই শনিবার জুয়েল মিয়ার জানাজা শেষে লাশ দাফনের আগে খাটিয়া কাঁধে নিয়ে শত শত মানুষ লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বুধাইবাড়ি পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। দফায় দফায় বিক্ষোভ সত্ত্বেও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমের গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে আসছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত সেটির গতি রোধ করে। তারা জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর করে চলে যায়। এসময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করায় নিহতের পিতা মো. কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে গত ১৬ জুলাই উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা গ্রামের মৃত ছাবুদ আলীর ছেলে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে মো. সানি (২২), মৃত ইসমাইল মাষ্টারের ছেলে উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামছুল আলম উরুফে এলেম (৫৫), এলেমের ছেলে মো. তৌকি মিয়া (২০) ও এলেমের ভাই মো. আসাদ উল্লাহ’র ছেলে মো. ছায়িম মিয়া (২০), আনসার বিডিপি কমান্ডার মো. জামান এর ছেলে মো. আসিফ মিয়া (২২), মো. হুমায়ুনের ছেলে মো. রনি (২১), মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. সাকিব মিয়া (২১), মো. জামাল মিয়ার ছেলে মো. সালমান মিয়া (২২), মো. ইব্রাহিমের ছেলে মো. সোহান মিয়া (২১), মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. জিদনী মিয়া (২২), ইছু মিয়ার ছেলে মো. টুকুল মিয়া (২২) ও সবুজ মিয়ার ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৩) সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের নামে আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নং- ২ কিশোরগঞ্জে একটি মোকদ্দমা দাখিল করেন।

বাদী কুদ্দুস মিয়ার দাবি, রহস্যজনক কারণে পুলিশ প্রথমে মামলা না নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

অন্যদিকে, সাধারণ গ্রামবাসীর অভিযোগ-একটি প্রভাবশালী মহল আসল অপরাধীদের আড়াল করতে এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যেকোনো প্রভাব ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘাতকদের গ্রেফতার করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলায়-এখন এটিই কুলিয়ারচরের সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category