২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও মিষ্টি বিতরণ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাসে মেতে ওঠেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের জন্য গর্বের বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষ।
তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপতি
ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, পৌর চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী থেকে বিএনপির মহাসচিব দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়েছেন মির্জা আলমগীর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানেও ছিলেন সক্রিয়। পরে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে ফেরেন। ১৯৮৮ সালে নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে, এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে দায়িত্ব পান ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতিতে এসে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে। দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন এবং নানা রাজনৈতিক সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় তার রাজনৈতিক ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।