• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন
Headline
কলিজা ভুনা রান্না করে না দেয়ায় যুবকের পরিবারের সাথে অ’ভিমানে আ’ত্ম’হ’ত্যা কুড়িগ্রামের ৮ কেজি গাঁহাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ভৈরবে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে বাবা-মেয়ের মৃ’ত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রে’প্তার চাঁনশিকারী সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযান, আ’টক ৩ চো’রাকারবারি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নওগাঁর দুই শীর্ষ এনসিপি নেতাকে শোকজ ঠাকিরগাঁওয়ে গড়েয়ার ৭শত পিস ইয়াবাসহ আটক ১ বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ, ১৭ জনকে শূন্য রেখায় আটকে দিল বিজিবি জয়পুরহাটের মানবিকতার আড়ালে মাদ্রাসার জমি দখলের অ’ভিযোগ ‎

কোরবানির ঈদ সামনে, মৌলভীবাজারে আলোচনার কেন্দ্রে ৩০ মণের ‘কালোমানিক

মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার ‘কালো মানিক’ নামের একটি গরুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। জেলার বিভিন্ন খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করা গরু প্রস্তুত করা হলেও সবার নজর কেড়েছে বিশাল আকৃতির “কালোমানিক” নামের একটি গরু।

বিশাল আকৃতি ও সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন কালোমানিককে এক নজর দেখতে। অনেকে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ দামও জানতে চাইছেন। এদিকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন ২৮ থেকে ৩০ মন ওজনের ‘কালো মানিকই মৌলভীবাজার জেলায় সব চাইতে বড় গরু।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৬ নং একাটুনা ইউনিয়নের উত্তরমুলাইম গ্রামে খামারি আব্দুল গপ্পার মিয়া মূলত লন্ডন প্রবাসী। দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাসের পর দেশে ফিরে শখের বসে বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে তোলেন ‘জে আর ডেইরি’ নামের গরুর খামার। খামারি আব্দুল গপ্পার মিয়ার খামারে কালো রঙের আকর্ষণীয় তিনটি ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় লালন-পালন করা হচ্ছে। শরীরজুড়ে ঘন কালো পশমে মোড়ানো এই গরুগুলোর গঠন নাদুসনুদুস এবং দৃষ্টিনন্দন। চলাফেরাতেও রয়েছে আলাদা স্বতন্ত্র।

সেখানকার একটি গাভী থেকে পরপর বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর গরুগুলো বড় করার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই থেকেই শুরু হয় লালন-পালনের যাত্রা।
নিজের সন্তানের মতো করেই তিনি বড় করেছেন এই তিনটি ষাঁড়। পরিবারের সদস্যরা আদর করে এই তিনটি ষাঁড়ের নাম রেখেছেন ‘কালোমানিক’। এক বা দুটি নয়, তিনটি কালোমানিকই এখন এলাকায় সবার নজর কাড়ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলেন, এবছর জেলায় কোরবানির পশুর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবেই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খামারে শ্রমিক জানান, “কালোমানিকের ওজন হবে প্রায় ২৮-৩০ মণ। ৩ বছর ধরে নিজে তাকে লালন-পালন করেছি। বিক্রি করতে নিজের কাছেই খারাপ লাগছে।” আমাদের মায়ার গরু খুব যত্নকরে লালন পালন করেছি বিক্রি হয়ে যাবে তাই খুব কষ্ট লাগছে।

স্থানীয়বাসিন্দারা বলেন, এই কালোমানিকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। “মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে দেখার মধ্যে এটাই সব থেকে বড় গরু দেখেছি। ভালো লেগেছে।” কালোমানিককে দেখতে আসা স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এমন বড় গরু তারা আগে খুব কমই দেখেছেন।
মৌলভীবাজারজে আর ডেইরি’ মালিক আব্দুল গপ্পার মিয়া বলেন, বাজার দরের তুলনায় তুলনামূলক কম দাম চাইছি। তবে ন্যায্য দাম পেলেই গরুগুলো বিক্রি করব। বড় কালোমানিকটির ওজন প্রায় ৩০ মণ। অন্য দুটি প্রায় ২৫ মণের মতো। কিছুদিন আগে বড় কালোমানিকটির দাম ১২ লাখ টাকা উঠেছিল, তবে তখন বিক্রি করিনি। দাম চাইছি ৮ লাখ টাকা। আর বাকি দুইটির জন্য মোট ১১ লাখ টাকা দাম চাইছি।

তিনি আরও বলেন, বড় কালোমানিকটির বয়স প্রায় ৩ বছর। অন্য দুটি আড়াই বছরের কাছাকাছি। এবারের কোরবানির ঈদে তিনি গরুগুলো বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। সকাল, দুপুর ও রাতে একটি ষাঁড়কে দানাদার খাবার হিসেবে প্রায় ১২ কেজি, ২০ কেজি ঘাস এবং ৭ কেজি খড় দেয়া হয়। এতে প্রতিদিন এক একটি ষাঁড়ের পেছনে প্রায় ৮০০ টাকার খাবার লাগে। মাস শেষে শুধু খাবার খরচই দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ টাকা।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডাঃ মোঃ আশরাফুল আলম খান বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন জেলার বিভিন্ন খামারে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে বিশাল আকৃতির কালোমানিককে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে আলাদা কৌতূহল ও আলোচনা। “আমাদের জানা মতে কালোমানিকটি মৌলভীবাজার জেলায় সব থেকে বড় গরু। শিল্পযুক্ত কাঁচা বাঁশ এবং খাদ্য মিশ্র সংমিশ্রণে এটাকে বড় করা হয়েছে। এবছর আমাদের উৎপাদন হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি এবং চাহিদা ৭১ হাজার ৭৭২টি। এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যেন গরু না আসে, সেটার জন্য স্থানীয়দের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখছি।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category