• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
Headline
ভৈরবে চেয়ারম্যান প্রার্থী আফিকুল ইসলাম হারিছের সমর্থনে উঠান বৈঠক জয়পুরহাটে গৃহবধূ সাজেদা হ’ত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কুপিয়ে হ/ত্যা, ছেলে আটক রামপালে জমি বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ছেলে নি’হ’ত, বাবা আহত কাপ্তাইয়ে ২৫ ফরেস্ট গার্ডের সপ্তাহব্যাপী বেসিক ফরেস্ট্রি প্রশিক্ষণ শুরু শরতের ভোরে প্রকৃতির নকশিকাঁথা, শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা রাবিপ্রবিতে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ নিয়ে ইনফরমেশন সেশন কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আটক লিটন মহাজন লিটুর আরোগ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনা

জেলের জালে ২২ কেজির ধাতিনা ভোল, দাম উঠল ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা

তরিকুল মোল্লা, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ‘ধাতিনা ভোল’ মাছ। মাছটি বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে প্রায় ১৬ হাজার ১৩৬ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদারের আড়তে মাছটি বিক্রি হয়। মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর মাছটি কিনে নেন।

এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেনের মালিকানাধীন ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

ট্রলারের মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার আগে শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলি। রাতে জাল টানার সময় ধাতিনা ভোল মাছটি পাই। এত বড় ও দামি মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।

মাছটির ক্রেতা ব্যবসায়ী হারুন মীর বলেন,এই মাছের মণ প্রায় ৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২২ কেজি ওজনের মাছটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছি। এখন বরফ দিয়ে মাছটি বড় মোকামে নেওয়া হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। আশা করছি, মাছটি বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারব।

উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন,কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ফাঁসের জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ায় অনেক মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে যায়। অনেক বছর পর ২২ কেজি ওজনের ধাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। মাছটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন বড় মাছ পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ধাতিনা ভোল মাছের পটকার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর পটকা উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। মাছের পটকা ওষুধ প্রস্তুত, চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা (Surgical Thread) এবং প্রসাধনী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।

বিরল এই মাছটি দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। মাছটির আকার ও দাম নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,এত বড় ধাতিনা ভোল মাছ আগে কখনো সরাসরি দেখিনি। মাছটির দামও যে এত বেশি, সেটাও জানা ছিল না। খবর পেয়ে কৌতূহল নিয়ে দেখতে এসেছি। মাছটি এক নজর দেখতে এখানে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন।

আরেক দর্শনার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন,২২ কেজি ওজনের মাছ, আবার দাম সাড়ে তিন লাখ টাকারও বেশি—বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো। এমন বিরল মাছ সাধারণত চোখে দেখা যায় না। তাই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি।

স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মাঝেমধ্যে এমন বিরল ও মূল্যবান মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। আর বড় আকারের এমন মাছ ধরা পড়লে তা জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category