কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা, মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় অভয় পক্ষের থানায় অভিযোগ
গত বৃহস্পতিবার (১৯মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার আদমপুর টুকার কান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় হামলায় নারীসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এবং লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুটের দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমানে আহতরা কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ আসাদ মিয়া, হক মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বসতবাড়ির পুকুর থেকে জোরপূর্বক মাছ ধরা নিয়ে প্রতিবেশী সবুজ মিয়া ও তার সহযোগীদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। সেই শত্রুতার জের ধরে সবুজ মিয়ার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয়অস্ত্র দা, লাঠি, লোহার রড ও বল্লম নিয়ে আসাদ মিয়ার বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে আমাদের ঘিরে ফেলে। সবুজ মিয়ার হুকুমে মাসুক ও সাইদুর আমার বড় ভাই এবং ছোট ভাইয়ের বউকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ও পিঠের হাড় ভেঙে দেয়।
এছাড়াও হামলাকারীরা শুধু মারধরই করেনি, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। এতে ঘরবাড়ির ক্ষতিসহ মোট কয়েক লক্ষ টাকার আর্থিক লোকসান হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে অষ্টগ্রাম সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে আহত হক মিয়া ও জনি আক্তারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকেই আসাদ মিয়ার বড় ভাই হক মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। হক মিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জনি আক্তারসহ বাড়ির নারীদের ওপরও চলে পাশবিক নির্যাতন। সবুজ মিয়ার সাত ভাই হওয়ার প্রভাবে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা সাধারণ মানুষের জমি দখল, এমনকি প্রবাসীদের স্ত্রীদেরও নানাভাবে উত্যক্ত করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জমি পত্তন নিয়ে ফেরত না দেওয়া এবং টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত সবুজ মিয়া বলেন,আমাদের পুকুর থেকে জোর করে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে আসাদ মিয়ার লোকজন। আমরা বাধা দিতে গেলেই তারা আমাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই হামলায় আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সবুজ মিয়া আরও বলেন, আসাদ মিয়া আমাদের আপন মামা, এই বিবাদ নিরসনে জন্য বারবার বলেছি আসেন আমরা কাগজপত্র নিয়ে বসি, যার যার দলিল অনুযায়ী জায়গা বুঝে নেই। কিন্তু তারা কোনোভাবেই বসতে রাজি নন। উল্টো আমাদের ওপর হামলার পর এখন আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে।”
এই ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন
অষ্টগ্রাম উপজেলা আদমপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মুন্নাফ মিয়া বলেন, সবুজ মিয়া ও তার লোকজন প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয় আরো অসংখ্য শালিশ করি যে সবুজ মিয়াদের। আসাদ মিয়া আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি দ্রুত এর একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করব।”
অষ্টগ্রাম থানার এসআই মোজাম্মেল খান বলেন, আমরা উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।