• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline
আদেশকৃত শিক্ষক যোগ দেননি, পাঠানো হলো নতুন শিক্ষক মৌলভীবাজার চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল নাজিরপুর যুবদলে রাসেল সিকদার নিয়ে জোর আলোচনা কুড়িগ্রামের গ্রামে চীনা জামাইকে দেখতে ভিড়, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল রংপুর বিভাগে ভূমিসেবা মেলা-২৬ বাস্তবায়নে প্রেস কনফারেন্স টুঙ্গিপাড়ায় মাদক ও চুরি প্রতিরোধে যুব সমাজের কঠোর অবস্থান কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ীর মৃ’ত্যু নিয়ে রহস্য, দু’র্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হা’মলা বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনে সকল পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত পাওনা টাকা চাওয়ায় মারধর, প্রাণ হারালেন বৃদ্ধ শ্রমিক নরসিংদীতে কর্মমূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ এসআই ইউসুফ আহমেদ

আদেশকৃত শিক্ষক যোগ দেননি, পাঠানো হলো নতুন শিক্ষক

মোঃ মাইদুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিনজন শিক্ষককে সাময়িক দায়িত্বে পদায়নের আদেশ জারি করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে এ পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। এর মধ্যেই কোনো অফিস আদেশ ছাড়াই অন্য একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সেখানে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, বড় খাটামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম এবং পশ্চিম বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ময়েন উদ্দিনকে আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ১৪ মে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। তবে ১৭ মে (রোববার) পর্যন্তও কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ।

তিনি বলেন, “তিনজন শিক্ষক দেওয়ার আদেশ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আদেশের তৃতীয় কার্যদিবসেও কেউ বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। তবে হরিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাহাঙ্গীর নামের একজন শিক্ষক এসেছেন। তাকে কোনো অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটি আমাদের জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর বলেন, “উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমাকে ফোন করে আসতে বলেছেন। তবে কোনো অফিস আদেশ দেওয়া হয়নি।”

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, পদায়ন হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে একজনের অসুস্থতাকে সামনে এনে আদেশ কার্যকর ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির চলছে। অফিস আদেশ বাস্তবায়নে গড়িমসি হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে একজন নারী শিক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম একাই সামাল দিয়ে আসছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ।

অফিস আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে তদবির চললেও শিক্ষক সংকট নিরসনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। শিক্ষা অফিসারের দিকে আশাহতভাবে তাকিয়ে আছেন তারা। দ্রুত শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মতে, নদীবেষ্টিত দুর্গম এই এলাকার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে। একদিকে নদী, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী অবস্থান এবং যাতায়াত ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী। বর্তমান পরিস্থিতি দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাংবাদিকের কল রিসিভ করেননি। ফলে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “আমি খেলা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category