নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বহুল আলোচিত গরু চুরির ঘটনা অনুসন্ধান কালে যৌথ অভিযানে নাটোরের সিংড়া থেকে আন্তঃজেলা গরু চোর-ডাকাত চক্রের কুখ্যাত ও দুর্ধর্ষ ৩ জন কে গ্রেফতার ও তাদের বাড়ি থেকে ৫টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁ জেলার রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। কৃষকদের এসব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ চুরির ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করে। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ডাটা বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাণীনগর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রথমে তিনজন আন্তজেলা গরু চোর-ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ধারাবাহিক বিশ্লেষণে গত মঙ্গলবার ২১ জুলাই রাতে র্যাব-১২, বগুড়ার সহযোগিতায় নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা বগুড়া থেকে কুখ্যাত গরু চোর গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার এবং র্যাব বগুড়ার কমান্ডিং অফিসারের সমন্বয়ে নাটোরের সিংড়ায় আরেকটি বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সূত্র মতে, পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পরিদর্শক হাসিব এবং রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকারিয়া মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গভীর রাতে নাটোরের সিংড়ায় রওনা হয়। তাদের সাথে র্যাবের একটি দলও যুক্ত হয়। প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সিংড়া উপজেলার হাট তাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত গরু চোর ও ডাকাত শ্রী সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০), শ্রী সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭) এবং তাদের সহযোগী বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার কোমল দোগাছি (২ নম্বর ওয়ার্ড, সান্তাহার পৌরসভা) এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে মো. গোলাম রব্বানী ওরফে রব্বানী ওরফে রব্বানী পাখিটার (৩৯) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও ময়মনসিংহকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ আন্তজেলা গরু চোর চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি ও ডাকাতি করে আসছিল। নাটোরে গ্রেপ্তার হওয়া সুজিত ও সুচন্দন স্থানীয়ভাবে গরুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। মূলত বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি বা ডাকাতির মাধ্যমে আনা গরু তারা কয়েকদিন নিজেদের হেফাজতে রেখে পরে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতো। পিক আপ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় চুরি ডাকাতি কাজে নিয়োজিত ছিল
পুলিশের দাবি, ধারাবাহিক তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে প্রথমে ৩ জন এবং মঙ্গলবার রাতের অভিযানে আরও ৩ জনকে ৬:জন কুখ্যাত আন্তজেলা গরু চোর ও ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বেশ কিছুদিন থেকেই একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোন কুলকিনারা করতে পারছিল না।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গরু কৃষকের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। এসব সংঘবদ্ধ গরু চোর ও ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে।